কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

  ১৬ জুন, ২০২৪

টুং টাং শব্দে মুখর কমলগঞ্জের কামারপল্লী

পবিত্র ঈদুল আজহা আগামীকাল। তাই দিন-রাত এক করে কাজে ব্যস্ত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কামাররা। সর্বত্র পশু জবাই, ব্যবচ্ছেদ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম তৈরি করা হয়। সরঞ্জামগুলোর মধ্যে রয়েছে দা, ছুরি, ছুরি, টাকশাল, কুড়াল ইত্যাদি।

গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার ভানুগাছ, আদমপুর, শমশেরনগর ও শ্রীমঙ্গলের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হাপরের মাধ্যমে কয়লার আগুনে বাতাস দিয়ে লোহার খণ্ডকে দগদগে লাল করা হচ্ছে। সেই আগুনে লাল হওয়া লোহার খণ্ডকে শরীরের সবটুকু শক্তি একত্র করে হাতুড়ি দিয়ে একের পর এক আঘাত করছেন কামাররা। সবারই হাত, পা, মুখ কালিতে ভরা। অসহনীয় উত্তাপে তাদের শরীরে দরদর করে বইছে ঘাম। তাদের একটাই লক্ষ্য ঈদের জন্য পশু জবাই করা, চামড়া ছাড়ানো, মাংস ও হাড় কাটার জন্য লোহারসামগ্রী তৈরি করা।

শ্রীমঙ্গল কামার পল্লীর শ্যামল দেব, অপূর্ব দেব, সুধাংশু কর্মকার জানান, বাপ-দাদার ঐতিহ্য এ কামার শিল্প।

বিগত দিন এ পেশা খুবই লাভজনক ছিল। এই ধরনের সরঞ্জামের চাহিদা ছিল অনেক বেশি। বর্তমানে চাহিদা কমে যাওয়ায় এ কাজ ছেড়ে দিয়েছেন অনেকেই। তাই দক্ষ কারিগরের অভাব দেখা দিয়েছে। মজুরের মূল্য অনেক বেশি। এ ছাড়া কামার শিল্পের কাঁচামাল যেমন- কাঠকয়লা, লোহা, ইস্পাত ইত্যাদির দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। তাই মানুষ বিকল্প চিন্তা করে অটো মেশিনের তৈরি জিনিস ও বিদেশ থেকে চায়না মাল আমদানি হওয়ায় তাদের ব্যবসায় অনেকটা ভাটা পড়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার ভানগাছ বাজারের রসু কর্মকার জানান, কামাররা পূর্বে কৃষি যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় লোহার হাতিয়ার তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পূর্বে বাপ-দাদার ঐতিহ্যগত সূত্রে এ পেশায় সবাই নিয়োজিত থাকলেও কালের পরিক্রমায় বর্তমানে এ পেশা থেকে অনেকে মুখ ফিরিয়ে চাকরি অথবা অন্যান্য ব্যবসায় দিকে ঝুঁকছে। এখন হাতেগোনা কিছু লোক এ ব্যবসায় জড়িত।

রসু কর্মকার বলেন, ‘বছর ঘুরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমরা এর অপেক্ষায় থাকি, খুশি হই। কারণ এ সময় যন্ত্রপাতির চাহিদা বেশি থাকে। আমরাও ব্যস্ত থাকি। নতুন দা তৈরি করতে ১ হাজার ৫০০, ছুরি ভালো মানের ১ হাজার, চাপাতি ভালো মানের ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নেই। এ ছাড়া পুরানো দা, চাপাতি ও ছুরিগুলো সান দিতে ২০০-৩০০ টাকা নিই।’ এ ছাড়া শানওয়ালা মেশিন কাঁধে কোরবানির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি শান দেওয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে কাজ করছেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close