চট্টগ্রাম ব্যুরো

  ০৮ ডিসেম্বর, ২০২১

কাঁচামাল আমদানির অনুমোদন পেল বিপিসি

কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্ট

দেশে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্টের জন্য কাঁচামাল আমদানির অনুমোদন পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন

(বিপিসি)। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি কাঁচামাল হিসেবে কনডেনসেট আমদানি করে এসব প্লান্টে সরবরাহ করবে। ফ্র্যাকশনেশন প্লান্টগুলোয় কাঁচামাল থেকে প্রস্তুত হওয়া জ্বালানিপণ্য পরবর্তী সময়ে আবার কিনে নেবে বিপিসি। তবে এক্ষেত্রে বড় অঙ্কের আর্থিক বিষয়াদি জড়িত থাকায় প্রস্তুত হওয়া জ্বালানি পণ্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত কমিটি ও সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নিতে হবে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে গতকাল এ অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্টগুলোয় জ্বালানির উপজাত কনডেনসেট পরিশোধন করে উৎপাদন হবে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন, এমটিটি ও ফার্নেস অয়েল।

কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্টের পাশাপাশি রিফাইনারির জন্য ক্রুড অয়েলও আমদানি করতে পারবে বিপিসি। তবে এ দুই ক্ষেত্রেই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে আমদানি করা কাঁচামালের মূল্য নির্ধারণ করবে বিপিসি। রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটিই কনডেনসেট বা ক্রুড অয়েল আমদানির বার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। সিআরইউ, নন-সিআরইউ ও রিফাইনারির মজুদ ক্ষমতা, উৎপন্ন জ্বালানি তেল ব্যবহারের সক্ষমতা বিবেচনায় এ পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সিআরইউ প্লান্ট ও রিফাইনারির জন্য বিপিসি প্লান্ট উপযোগী কনডেনসেট আমদানির পাশাপাশি নন-সিআরইউ প্লান্টের জন্য নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাঁচামাল কনডেনসেট আমদানি করে সরবরাহ করবে।

এ ছাড়া যেসব প্লান্ট বিএসটিআইয়ের মান অনুযায়ী জ্বালানি তেল উৎপাদনে সক্ষম শুধু সেসব প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বিপিসির কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করা কনডেনসেট ও ক্রুড অয়েল সরবরাহ করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। কনডেনসেট বা ক্রুড অয়েল সরবরাহের পর ইয়েল্ড প্যাটার্ন অনুযায়ী উৎপন্ন পণ্য বিপিসি গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে কোনোক্রমেই পণ্য বিপিসির অনুমতি ছাড়া রপ্তানি বা খোলাবাজারে বিক্রি করা যাবে না। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের ভেজাল রোধে কনডেনসেট বা ক্রুড অয়েল প্লান্টে ব্যবহার ছাড়া গ্রাহকের কাছে সরাসরি না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বিপিসির উপমহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, পরিশোধনকারী কারখানাগুলোর জন্য কাঁচামাল হিসেবে কনডেনসেট বা ক্রুড অয়েল আমরাই বিদেশ থেকে আমদানি করে আনব। কী পরিমাণ আমদানি করতে হবে, সেটা বছরের শুরুতেই বা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। এ কাঁচামাল প্লান্টগুলোয় সরবরাহ করা হবে তাদের সক্ষমতা বুঝে। আবার সেখানে প্রস্তুত হওয়া জ্বালানি বিপিসির কাছেই বিক্রয় করতে হবে।

বিপিসির তথ্যানুযায়ী, জ্বালানি তেলের চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে দেশের গ্যাস ফিল্ড থেকে কনডেনসেটের প্রাপ্যতা প্রতিনিয়ত কমছে। চলতি বছরে যার পরিমাণ দৈনিক ১০ হাজার ব্যারেলের নিচে নেমেছে। এ ছাড়া সিলেট গ্যাস ফিল্ডের সিআরইউ ইউনিট চালু হলে বর্তমানে উৎপাদিত কনডেনসেটের অধিকাংশই শুধু সরকারি প্লান্টে ব্যবহার হবে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে বিপিসির পক্ষ থেকে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে এর আগে চারটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এতে দেশে কাঁচামাল হিসেবে কনডেনসেট আমদানি করে তার থেকে জ্বালানি তৈরির ব্যাপারে যুক্তি ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close