নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নতুন শিল্পনীতি

‘সব অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন প্রাধান্য পাবে’

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, দেশের সব অঞ্চলে সুষমভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনকে প্রধান্য দিয়ে প্রণীত হচ্ছে জাতীয় শিল্পনীতি-২০২১। গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত জাতীয় শিল্পনীতি ২০২১-এ ব্যক্তি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার যুক্ত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ৫ শতাংশ বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি খাতের যৌথ সমন্বয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, দক্ষ ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প প্রতিষ্ঠা, গবেষণার মাধ্যমে শিল্প খাতের দেশীয় প্রযুক্তির প্রসার, সিএমএসএমই খাতের দক্ষতা উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়গুলো নতুন শিল্পনীতিতে প্রাধান্য পাবে।

তিনি জানান, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা গ্রহণের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদের উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় খাতগুলোর পণ্য বহুমুখীকরণের পাশাপাশি ভৌত অবকাঠমো সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়ের ওপর নতুন শিল্পনীতিতে গুরুত্ব প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, কোভিড মহামারি মোকাবিলায় দেশের ব্যক্তি খাতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সরকার বেশকিছু প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদান করছে, যার ফলে আমাদের অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার হয়েছে। দেশের সিএমএসএমই খাতে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, তাই এ খাতের বিকাশে আর্থিক ও নীতি সহায়তা নিশ্চিতকরণের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, পণ্যের গুণগত মান সংরক্ষণ ও মেধাসম্পদ ব্যবস্থাপনা, এসএমইয়ের সঠিক সংজ্ঞায়ন, সারা দেশে শিল্পায়ন কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, ক্লাস্টারভিত্তিক শিল্প পার্ক গড়ে তোলা, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে আকর্ষণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ও অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদান করারই জাতীয় শিল্পনীতি ২০২১-এর মূল লক্ষ্য। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান দেশের সিএমএসএমই খাতের যথাযথ উন্নয়নে বিদ্যমান সংজ্ঞার সংশোধনের আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে এ খাতের উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও নীতি সহায়তা প্রাপ্তির বিষয়টি সহজতর হবে। এ ছাড়াও তিনি এলডিসি উত্তর সময়ে বিশেষ করে দেশের রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রপ্তানির সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার প্রদানের ওপরে জোরারোপ করেন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মাঝে নেগোশিয়েশনের দক্ষতা উন্নয়নের প্রস্তাব করেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহাকারী সচিব (নীতি) সলিম উল্লাহ ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বলেন, নতুন শিল্পনীতিতে জাতীয় আয়ে শিল্প খাতের অবদান বিদ্যমান অবদান ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সর্বোচ্চ সুফল অর্জন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যম দরিদ্রতা ও বেকারত্ব হ্রাস, সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী শিল্প খাতগুলোর প্রসার ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের পর নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে শিল্প খাতে সক্ষমতা বাড়ানো প্রভৃতি বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যক্তি খাত ও শ্রমিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতার বাজারের অবস্থান সুদৃঢ় করা লক্ষ্য নিয়ে শিল্পনীতি প্রণয়ন করা হয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেন এ বছরের মধ্যেই নতুন শিল্পনীতি চূড়ান্তকরণ সম্ভব হবে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close