নিজস্ব প্রতিবেদক

  ০৮ জুলাই, ২০২৪

প্রধানমন্ত্রী চীন যাচ্ছেন আজ

গুরুত্ব পাবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাণিজ্য ঘাটতি

চার দিনের সরকারি সফরে আজ সোমবার চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেলা ১১টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে চীনের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অশান্তি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে। গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সফর নি?য়ে সংবাদ স?ম্মেল?নে এসব তথ?্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

মন্ত্রী জানান, চী?নের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী ৮ থে?কে ১১ জুলাই বেইজিং সফর কর?বেন। প্রধানমন্ত্রীর সফ?রে সড়ক, অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক খাতে সহায়তা, স্বাস্থ্য খাতসহ প্রায় ২০?টির ম?তো সম?ঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা র?য়ে?ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফ?রে কিছু প্রকল্পও ঘোষণা করা হবে। এ সফরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিস্তা প্রসঙ্গে চীনের সঙ্গে আলোচনা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী। ভারত যৌথ নদীগুলোর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আমাদের একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের একটি টেকনিক্যাল টিম পাঠাবে। তারা আমাদের টেকনিক্যাল টিমের সঙ্গে যৌথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করবে। যেহেতু এটি ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ নদী, তাই প্রথমে ভারতের প্রস্তাব বিবেচনায় নিতে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ২০-২২টি এমওইউ (সমঝোতা স্মারক) স্বাক্ষর হবে। এর মধ্যে ইকোনমিক কোঅপারেশন বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে। এই এমওইউর অধীনে সংশ্লিষ্ট প্যারামিটার ফিল আপ করতে পারলে ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়া যাবে। যেসব এমওইউ স্বাক্ষর হবে, তার মধ্যে চীন থেকে রিজার্ভ সাপোর্ট পাওয়ার মতো কিছু নেই। অফিশিয়ালি আমরা এমন কোনো প্রস্তাব দিয়েছি বলে আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে আর্থিক সহায়তা এবং নতুন প্রকল্পে অর্থায়নের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের সময় দেশটির সঙ্গে বেশ কয়েকটি দলিল সইয়ের কথা রয়েছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর বই ‘আমার দেখা নয়াচীন’-এর চায়নিজ ভাষায় অনুবাদের মোড়ক উন্মোচন করবেন।

রিজার্ভ সাপোর্ট সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী আরো বলেন, নানা দেশ আমাদের নানারকম প্রস্তাব দেয়। সব প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করি না। আমাদের প্যারামিটার ফুলফিল করলে সেসব প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করি। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহার করার পর আবারও পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করার প্রস্তাব দিয়েছিল, আমরা নেইনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরো উন্নতি হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোয় বিভিন্ন দেশ যেভাবে টাকা রাখে, কোনো দেশ বা ব্যাংক চাইলে আমাদের সেন্ট্রাল ব্যাংকে টাকা রাখতে পারে। এটা ভিন্ন বিষয়।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে চীনের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের সাউদার্ন রিজিওন ডেভেলপমেন্টের বিষয়ে চীনের সঙ্গে আমরা আলোচনার মধ্যে আছি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরেও এ বিষয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে মোংলা পোর্টের উন্নয়নের বিষয়টিও থাকবে।

সফরসূচি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকাল ১১টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় তিনি বেইজিংয়ে পৌঁছাবেন। চার দিনের সফর শেষে ১১ জুলাই দুপুর ২টায় দেশে ফিরবেন।

বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিন লিকুন সাক্ষাৎ করবেন। ওইদিন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি আয়োজিত ইনভেস্টমেন্ট সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে তিয়েন আনমেন স্কয়ারে শ্রদ্ধা জানাবেন। পরদিন ১০ জুলাই চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close