নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২৯ নভেম্বর, ২০২২

মজুরি বাড়ানোর আশ্বাসে নৌ-ধর্মঘট প্রত্যাহার

মজুরি বাড়ানোর আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন নৌযান শ্রমিকরা। সোমবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর দেশের নৌপথে শুরু হয়েছে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল।

এদিন বিকালে শ্রমভবনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানসহ রাষ্ট্রের চার সংস্থার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। মালিক-শ্রমিক ঐকমত্যে পৌঁছায় সন্তোষ জানিয়েছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী।

মালবাহী ও যাত্রীবাহী সব ধরনের নৌযান শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ ১০ দফা দাবিতে দেশব্যাপী দ্বিতীয় দিনের মতো গতকালও দেশের সবকটি নৌবন্দরে বন্ধ ছিল পণ্য খালাস ও ওঠানামা। নৌযান শ্রমিকদের আরো ১২টি সংগঠনও এ কর্মবিরতিতে অংশ নেয়। এর আগে রবিবার ভোর থেকে দেশের সবকটি নৌবন্দরে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এ ধর্মঘটে জেলার নদীপথে চলাচলকারী প্রায় দেড় হাজার কোস্টার ট্যাংকার জাহাজ, তিন হাজার বালুবাহী বাল্কহেড ও পাঁচটি রুটে ৭০টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ শ্রমিক ও নেতাদের অভিযোগ, শ্রমিকদের বর্তমান সর্বনিস্ন মজুরি ৭ হাজার ৭০০ টাকা ও মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ দুই লাখ টাকা নির্ধারণ রয়েছে। তবে তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মালিকপক্ষ বিভিন্ন সময়ে মজুরি ও মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধি করবে বলে বারবার আশ্বাস দিলেও তা মেনে নিচ্ছেন না। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করা হলেও শ্রমিকদের ভারতের ল্যান্ডিং পাসও দেওয়া হচ্ছে না।

এছাড়া নৌপথে ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি বন্ধ, চট্টগ্রামের চরপাড়া ঘাটের ইজারা বাতিল, সারা দেশে সব নদীবন্দরের আশপাশে জাহাজ নোঙর করার নির্দিষ্ট স্থান পোতাশ্রয় নির্মাণ ও বালুবাহী নৌযান ইজারাদারদের হয়রানি বন্ধসহ ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান শ্রমিকরা। অন্যথায় কর্মবিরতিসহ অনির্দিষ্টকালের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন নৌযান শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

শ্রমিকদের দফা দাবি হলো- নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দান, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদানসহ শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, খাদ্য ভাতা ও সমুদ্র ভাতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন করা, দুর্ঘটনা ও কর্মস্থলে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা, চট্টগ্রাম থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে দেশের স্বার্থবিরোধী অপরিণামদর্শী প্রকল্প বাস্তবায়নে চলমান কার্যক্রম বন্ধ করা, বালুবাহী বাল্কহেড ও ড্রেজারের রাত্রিকালীন চলাচলের ওপর ঢালাও নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস দেওয়াসহ ভারতীয় সীমানায় সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করা, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন নীতিমালা শতভাগ কার্যকর করে সব লাইটার জাহাজকে সিরিয়াল মোতাবেক চলাচলে বাধ্য করা, চরপাড়া ঘাটে ইজারা বাতিল ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সব ধরনের অনিয়মণ্ডঅব্যবস্থাপনা বন্ধ করা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close