ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

  ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মগটুলা ইউনিয়নের একটি কাঁচা রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত টিআরের টাকা কাজ না করেই উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক বরাবর একটি অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তবে এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেছেন, বৃষ্টির কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি।

জানা যায়, উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের নাউরী ইকুরিয়াকান্দা গ্রামের সরকারবাড়ি জামে মসজিদ হতে সুলতান ফকিরের বাড়ি পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা সংস্কারের জন্য টিআর প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। যে প্রকল্পের প্রকল্প সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন। অপর দিকে একই গ্রামের আব্দুল মজিদের বাড়ি হতে রোকন উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য আরেকটি টিআর প্রকল্পের আওতায় ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। যে প্রকল্পের সভাপতি স্থানীয় মেম্বার রফিকুল ইসলাম। প্রকল্প দুটিতে কাজ না করেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজশে বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলনের পর ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর পক্ষে মো. সিরাজ উদ্দিন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক বরাবর পেশ করেন।

বিষয়টি নিয়ে অভিযোগকারী সিরাজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, এ রাস্তায় পাঁচ গ্রামের মানুষ যাতায়াত। বৃষ্টি হলে গ্রামবাসীসহ স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে। ওই অবস্থায় আমরা এলাকাবাসী মিলে একটি ইটের খলা থেকে কিছু ডাস্ট ও রাবিশ কিনে এনে রাস্তাটিতে ফেলেছি। রাস্তাটিতে সংস্কারের জন্য বরাদ্দ এলেও কাজ না করে পুরো টাকা চেয়ারম্যান-মেম্বার মিলে আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি জানার পর এলাকাবাসী মিলে দুদক বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। আমরা তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।

মেম্বার রফিকুল ইসলাম বলেন, টিআর প্রকল্প পেয়ে চার মাস আগে রাস্তাটিতে কাজ করেছি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন আবার কাজ করে দিচ্ছি। চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন বলেন, বরাদ্দ পাওয়ার পর বৃষ্টির কারণে মাটির অভাবে রাস্তার সংস্কার কাজ করতে পারিনি, এখন দ্রুত করে দেব।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, যদি বিষয়টি এমন হয়ে থাকে তাহলে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সঙ্গে কথা বলে কাজটি করে দিতে বলব। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজা জেসমিন বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি আমি দেখছি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close