রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

  ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২

রায়পুরের সড়ক যেন মরণফাঁদ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় রয়েছে অনেকগুলো অভ্যন্তরীণ সড়ক। আর এসব সড়কের অধিকাংশ এলাকা জুড়ে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। প্রায় ৪১ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থা। এসব সড়ক যেন মরণফাঁদ।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা সদর থেকে মীরগঞ্জ ৭ কিলোমিটার রায়পুর থেকে হায়দারগঞ্জ ১১ কিলোমিটার, বাংলাবাজার বেড়িবাঁধ ২ কিলোমিটার, হায়দারগঞ্জ থেকে দালাল বাজার সম্মুখ পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থা। এই জনবহুল সড়কগুলো দিয়ে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ মানুষ চলাচল করে। গত মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে এই সড়কগুলোর বেহাল চিত্র দেখা যায়।

রায়পুর, মিতালী বাজার, সমিতির হাট, জনতা বাজারের স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব সড়ক দিয়ে পথচারী এবং যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। এসব স্থানে ছোট-বড় গর্ত রয়েছে আর সেই গর্ত দিয়ে রাত-দিন ছোট-বড় যান চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব সড়কে ছোট-বড় গর্তে গাড়ি উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, গর্ভবর্তী মা ও নবজাতক এবং মালবাহী গাড়িগুলো।

১০নং রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান সফিউল আজম সুমন চৌধুরী জানান, রায়পুর থেকে হায়দারগঞ্জ ১১ কিলোমিটার সড়কটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সড়কটি এলজিইডির আওতাধীন। ২০০০ মিটার থেকে ২৮৫০ মিটার। যা অনুমোদন হয়ে টেন্ডারের প্রক্রিয়াধীন। সড়কটি ৯ এবং ১০নং ইউনিয়নের মধ্যস্থানে অবস্থিত। সুমন চৌধুরী বলেন, ‘সড়কটির ড্রেনেজের প্রস্তাবনা করা আছে। বাজার ডাকে যে অর্থ সরকারি রাজস্ব খাতে জমা আছে। ইউএনওর অর্থ প্রদানে আমি অতি অল্প সময়ের মধ্যে ড্রেনেজের কাজ সম্পূর্ণ করব।’

পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট বলেন, এখানে জনসংখ্যা আছে পঞ্চান্ন হাজারের মতো। পৌরসভার ভেতরে প্রায় ৫-৬ কিলোমিটার সড়ক বেহাল অবস্থায় আছে। জনগণের চলাচলের স্বার্থে ও যান চলাচলের সুবিধার্থে অতিদ্রুত কাজ হাতে নিয়েছি।

রায়পুুর উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস সূত্রে জানা যায়, ১০টি ইউনিয়নের আয়তন ১৯৫.৯৮ বর্গকিলোমিটার। রায়পুর উপজেলার এলজিইডির আওতাধীন ১০টি ইউনিয়নে অভ্যন্তরীণ সড়ক রয়েছে ১১০৭টি। এরমধ্যে পাকা সড়ক রয়েছে ৩৭৮টি এবং আধাপাকা সড়ক ৭২৯টি। এই সড়কগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৮০ বর্গকিলোমিটার। উপজেলার অভ্যন্তরীণ মোট ১১০৭টি সড়কেরই বেহাল অবস্থা। সড়কের এই দুরবস্থার কারণে ১০ ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ পঁচাত্তর হাজার মানুষ ভোগান্তিতে আছে।

শেষনাগাদ ২০১৯ সালে রায়পুর থেকে হায়দারগঞ্জ সড়কটির সংস্কারের কাজ করা হয়। ২০১৯ সালে রায়পুর থেকে মীরগঞ্জ, ২০১৮ সালে বাংলাবাজার থেকে বেড়িবাঁধ, ২০১৮ সালে হায়দারগঞ্জ থেকে সøুইসগেট, ২০১২ সালে মোল্লার হাট থেকে দালাল বাজার সম্মুখের কাজ করা হলেও এরপর আর কোনো সংস্কারের কাজ করা হয়নি।

রায়পুর উপজেলার প্রকৌশলী এবং উপসহকারী প্রকৌশলী বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা বলেন, বর্তমানে হায়দারগঞ্জ সড়কটির ৩ কিলোমিটার টেন্ডারের প্রক্রিয়াধীন আছে। এ ছাড়া মীরগঞ্জ সড়কটি প্রস্তাবিত হয়ে আছে। ২৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ চলমান আছে। প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজ বলেন, ‘আমরা অতি অল্প সময়ের মধ্যে ১০ ইউনিয়নের সবগুলো সড়কের কাজ সম্পূর্ণ করব আশা করছি।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close