নিজস্ব প্রতিবেদক

  ০৫ ডিসেম্বর, ২০২১

বিয়ের চাপ দেওয়ায় হত্যা করা হয় খুশিকে

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী খুশি বেগম। একই এলাকার মহিউদ্দিন নামের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তার। একপর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে খুশি। কিন্তু মহিউদ্দিন বিয়েতে রাজি হয়নি। তখন খুশি বেগম তাদের সম্পর্কের কথা ফাঁস করার হুমকি দেয়। সম্মানহানির ভয়ে হাফেজ মহিউদ্দিন গত ১৭ নভেম্বর খুশি বেগমকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে পাশের ধানখেতে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

ওই ঘটনার তিন দিন পর ধানখেত থেকে ওই কিশোরীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় খুশির পরিবার নিখোঁজের জিডি করে। পরে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নামে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনসহ ঘটনার মূল অভিযুক্ত মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির এলআইসি শাখার একটি দল।

গতকাল শনিবার মালিবাগ সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।

মুক্তা ধর বলেন, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাসিন্দা পরিবহন কর্মচারী বাবার ছয় মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে খুশি বেগম (১৫) সবার ছোট। একই উপজেলার ইউসুফ নামের এক লন্ডন প্রবাসীর সঙ্গে দুই বছর আগে মোবাইল ফোনে পারিবারিক সম্মতিতে খুশির বিয়ে হয়। তবে এ সম্পর্কের বাইরে একই এলাকার হাফেজ মহিউদ্দিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকে খুশির। দীর্ঘদিন প্রেম করার পর খুশি বিয়ের জন্য মহিউদ্দিনকে চাপ দিলে সে তাতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে ওই কিশোরী সম্পর্কের কথা প্রকাশের হুমকি দিলে মহিউদ্দিন বিয়ের প্রলোভনে রাতে খুশিকে বাসা থেকে বের করে ধানখেতের মধ্য নিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

মুক্তা ধর বলেন, গত ১৭ নভেম্বর নিখোঁজ হয় ছাতকের গৌরীপুরের খুশি বেগম। সে মুক্তিরগাঁও হাফিজিয়া মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। নিখোঁজের বিষয়ে দুদিন পর তার বাবা ছাতক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ২১ নভেম্বর সকালে প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে গ্রামের একটি ধানখেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় খুশি বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় থানা-পুলিশ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠায়। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা অচেনাদের আসামি করে সুনামগঞ্জের ছাতক থানায় হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় সিআইডি ছায়াতদন্ত শুরু করে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিচার-বিশ্লেষণ করে আসামিকে শনাক্ত করা হয়।

বিশেষ পুলিশ সুপার আরো বলেন, সিলেট শহর এলাকার ইউসুফ নামের এক লন্ডন প্রবাসীর সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে পরিবারের সম্মতিতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খুশির বিয়ে হয়। স্বামীর অবর্তমানে একই এলাকার হাফেজ মহিউদ্দিনের (২২) সঙ্গে খুশি বেগমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মহিউদ্দিন খারগাঁও হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে ২০১৮ সালে হেফজ পাস করে দুই বছর বেকার ছিলেন। সব বিষয় যাচাই-বাছাই করে এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মহিউদ্দিনের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়। পরে এলআইসি শাখার একটি চৌকস দল মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মহিউদ্দিন খুশি বেগমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক কথা স্বীকার করে। সে আরো জানায়, খুশি বেগম তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি ফাঁস করার হুমকি দেয় খুশি। এরই জেরে পরিকল্পিতভাবে ১৭ নভেম্বর রাতে খুশি বেগমকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে ধানখেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close