টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

  ২৮ নভেম্বর, ২০২১

টঙ্গীর মাজার বস্তিতে আগুন, ৫০০ ঘর ছাই

গাজীপুরের টঙ্গীর মাজার বস্তিতে আগুন লেগে ৫০০ ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সব হারিয়ে আহাজারি করছেন, আবার কেউ কেউ সেই ছাই হাতড়ে ফিরছেন, যদি কিছু অক্ষত থাকে সেই আশায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত দেলোয়ারা বেগম (৪৫) নামের এক নারীর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছিল মাজার বস্তির আকাশ-বাতাস। তার আর্তি ‘আমার কিছু নাই, আমার সব শেষ। এখন আমি কীভাবে চলব।’ তার মেয়ে ফাতেমার চোখেও অঝরে ঝরছে পানি। মা-মেয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বিলাপ করছিল।

বস্তিবাসীর কেউ গৃহকর্মীর কাজ করেন, কেউ সিটি করপোরেশনের সড়ক ঝাড়ু দেন, আবার কেউ শ্রমিক। আবার কেউবা ভ্যান-রিকশা চালান, ঠেলাগাড়িতে সবজি বিক্রি করেন। সম্বল বলতে ঘরে জমানো সামান্য টাকা, রান্নার চাল-ডাল, হাঁড়ি-পাতিল আর ঘরের জিনিসপত্র। মাজার বস্তিবাসীর সেই সম্বলটুকুও আগুনে পুড়ে গেছে। পুড়েছে শেষ সম্বলটুকু।

গতকাল শনিবার ভোর ৪টার দিকে সেনাকল্যাণ ভবনের পাশে বস্তিটির একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। টঙ্গী ছাড়াও ঢাকার কুর্মিটোলা ও উত্তরার ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ২ ঘণ্টার চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সরজমিনে দেখা যায়, নির্ঘুম রাত কাটানো খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই পাওয়া বস্তিবাসীর চোখ এখন ছাইয়ের স্তূপে। ধ্বংসস্তূপ থেকে কুড়িয়ে নিচ্ছেন বেছে যাওয়া ন্যূনতম সম্বলটুকু। বস্তিবাসীদের কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন খাবারের।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা খাবারের ব্যবস্থা করলেও সেটা ছিল অপর্যাপ্ত। একই বস্তিতে ২০০৫ সালেও ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

ফুলবানু নামের একজন ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসী জানান, তার স্বামী অটোরিকশা চালক। আর তিনি পিঠা বিক্রি করেন। স্বামী-স্ত্রীর দুজনের আয়ের সিংহ ভাগ ছেলে ফয়সালের পড়াশোনার খরচ চালায়। মাটির ব্যাংকে জমাতেন খুচরা টাকা। আগুনে তারও সব কিছুই খোয়া গেছে। কী হবে তার ছেলের ভবিষ্যৎ, সেই চিন্তায় বিমর্ষ এই দম্পতি।

শহিদুল ইসলাম নামে আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বলেন, স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্ডেন স্কুলে পড়ে তার মেয়ে সোনালি। আগুন নিভে যাওয়ার পর ধ্বংসস্তূপে নিজের বই-খাতা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছে মেয়েটি। তিন রুমের ঘরে খাট, ড্রেসিং, টেবিল। সবই পুড়ে গেছে।

স্থানীয় ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকার জানান, পানির সংকট থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে স্থানীয়রাও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান বলেন, আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বস্তির পাঁচশর বেশি ঘর এবং সব মালামাল পুড়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক দিনমনি শর্মা জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের তাপে বস্তির ঘরে ঘরে থাকা সিলিন্ডারের রাবারের পাইপ গলে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রথমে টঙ্গী ফায়ার স্টেশন এবং পরে কুর্মিটোলা ও উত্তরা ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

গাজীপুর সিটি করপোশেনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ বস্তি পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সাত দিনের খাদ্য কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল জানান, তাদের পুনর্বাসন করা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও প্যানেল মেয়র আবদুল আলিমসহ আরো অনেকে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close