নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১১ অক্টোবর, ২০২১

বললেন ইসি মাহবুব

নির্বাচন বাঁচাতে ‘মেডিকেল বোর্ড’ লাগবে

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ‘নির্বাচন এখন কিছু জটিল অসুখে আক্রান্ত। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় গণতন্ত্রের অবস্থা সংকটাপন্ন। এক ডাক্তারের পক্ষে তাকে বাঁচিয়ে তোলা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ‘মেডিকেল বোর্ড’ গঠনের বিকল্প নেই। গতকাল রোববার বিকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে ‘চলমান স্থানীয় নির্বাচন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ : আমার কথা’ শীর্ষক এক লিখিত বক্তব্য দেন তিনি।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে উপনির্বাচনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ৭ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের উপনির্বাচন পরিদর্শন করি। ইভিএমে ভোটগ্রহণে সেখানে ২০ শতাংশ ভোট পড়ে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু ভোটের টার্নআউট এত কম হওয়ায় জনগণের নির্বাচন বিমুখতা আমাকে হতাশ করে। অপরদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদের উপনির্বাচনে ইভিএমে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই বৈষম্য কেন তার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা প্রয়োজন। ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তবে এর প্রতিবন্ধকতা দূর না হলে কাক্সিক্ষত ফল লাভ করা যাবে না।

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে মাহবুব তালুকদার বলেন, আগামী নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিভিন্নজনের তর্কবিতর্ক এখন তুঙ্গে। গত ৫০ বছরে সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন নিয়োগে আইন প্রণয়ন করা হয়নি। বাধ্যতামূলক হলেও সব ক্ষমতাসীন সরকার এটা লঙ্ঘন করেছে। সর্বজনীন ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতায়ন ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা থাকলে, এ আইন করা অনস্বীকার্য। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সব দলের সমঝোতা ছাড়া এ আইন করা অসম্ভব। তবে আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। আইন প্রণয়ন নির্বাচনের অন্যতম বা প্রধান সোপান হলেও অবশ্যই তা সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সমঝোতা না হলে দেশব্যাপী অরাজকতা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close