নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ইয়াবা পাচারের মাধ্যম ‘সুপারি’!

ইয়াবাবিরোধী অভিযান ও কারবারিদের গ্রেপ্তারেও থামছে না পাচার। বরং ইয়াবা পাচারে নতুন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। এই কৌশলের অংশ হিসেবেই এবার সুপারিকে বেছে নিয়েছে কারবারিরা। ১০ হাজারের নিচে ইয়াবার অর্ডার পেলেই সুপারি জোগাড় করছে কক্সবাজারের কারবারিরা। এরপর দক্ষ শ্রমিকদের মাধ্যমে খোসা প্রায় অক্ষত রেখে বের করে ফেলা হয় মূল অংশ। ফাঁকা স্থানে ঢোকানো হয় টেপে মোড়ানো ইয়াবা। একেকটি সুপারির খোলে ধরে ১৫০ বড়ি। সম্প্রতি এ রকম চালানসহ রাজধানীর এক ইয়াবা কারবারিকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জানা গেছে।

সুপারি খোসা আলগা করতেই খোল থেকে বেরিয়ে আসছে লাল টেপে মোড়ানো পুঁটলি। টেপের প্যাঁচ খোলার পর মেলে ইয়াবা। ৫০টি সুপারি থেকে উদ্ধার হয়েছে সাড়ে ৭ হাজার ইয়াবা।

সুপারির মধ্যে ইয়াবা ঢুকিয়ে কক্সবাজারের কারবারি চালান পৌঁছে দিয়েছে ঢাকার কারবারির কাছে। চালান নিয়ে আস্তানায় যাওয়ার পথে গোয়েন্দাদের নজরে পড়েন সাজ্জাদ হোসেন। সুপারিরহস্য উন্মোচনের পর পুলিশ জানিয়েছে, ১০ হাজারের নিচে অর্ডার পেলে ইদানীং সুপারির মধ্যে চালান সরবরাহ করছে কক্সবাজারের ইয়াবা কারবারিরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগের মিরপুর উপকমিশনার মানস কুমার পোদ্দার বলেন, সুপারির ভেতরের শক্ত অংশটুকু ফেলে দিয়ে বাইরের আবরণের মধ্যে ঢুকিয়ে ইয়াবাগুলো চোরাচালান করা হচ্ছে। এ সময় তারা সঙ্গে কিছু ভালো সুপারিও রাখেন যেন কেউ বুঝতে না পারে। এভাবেই তারা ইয়াবা চোরাচালান করছে।

গ্রেপ্তার সাজ্জাদের কাছ থেকে কক্সবাজার ও ঢাকার বেশ কজন ইয়াবা কারবারি সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাদের ধরতেও তৎপরতা চলছে। এ দিকে, বারবার পরিবহন কৌশলে বদল আনায় পাল্টা কৌশল নিয়ে ইয়াবা কারবারিদের ধরতে রাজধানীজুড়ে ফাঁদ পেতে রাখার কথা জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ইয়াবা চালান বন্ধ না হওয়ার প্রাথমিক কারণ হচ্ছে মানুষ ইয়াবা সেবনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এখন চাহিদা থাকলে তো জোগান আসবেই। ইয়াবাসহ মাদক চোরাচালান বন্ধে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিনই ইয়াবার চালান আসছে, আমরা অভিযান চালাচ্ছি। ইয়াবা উদ্ধার ও ইয়াবাসেবী ও কারবারিদের আটক করছি।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close