হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

  ১১ জানুয়ারি, ২০২১

বিক্রি করা সন্তান ফিরে পেলেন মা

হবিগঞ্জে ছয় হাজার টাকার জন্য ১৫ দিনের সন্তানকে বিক্রি করে দিলেন মা-বাবা। গত শনিবার হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে শুরু হয় তোলপাড়। অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে মা-বাবার কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বিক্রি হওয়া সেই নবজাতককে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জেলার বানিয়াচং উপজেলার মন্দরি গ্রামে রহিম উদ্দিনের স্ত্রী আকলিমা বেগম গত শুক্রবার শারীরিক সমস্যা নিয়ে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হন। এ সময় চিকিৎসকরা জানান পাঁচ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। পরে নবজাতকের বাবা রহিম উদ্দিন টাকার অভাবে রক্তের ব্যবস্থা করতে না পারায় সন্তান বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি জানতে পারেন একই ওয়ার্ডে রোগী নিয়ে আসা নবীগঞ্জ উপজেলার ওয়াখাল চরগাঁও গ্রামের আছকির মিয়া। এ সময় তিনি নবজাতক কিনতে আগ্রহী হলে মাত্র ছয় হাজার টাকার বিনিময়ে সন্তান বিক্রি করে দেন রহিম-আকলিমা দম্পতি।

------
নবজাতকের বাবা রহিম উদ্দিন বলেন, ১৫ দিন আগে গ্রামের বাড়িতে তার স্ত্রী একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। এর আগেও তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি। সম্প্রতি তার স্ত্রীর অবস্থার অবনতি হলে গত শুক্রবার হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকরা জানান তার স্ত্রীর জন্য পাঁচ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। কিন্তু টাকার অভাবে রক্তের ব্যবস্থা করতে না পারায় স্ত্রীকে বাঁচাতে সন্তান বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।

নবজাতকের মা আকলিমা বেগম বলেন, টাকার জন্য নিজের চিকিৎসা করাতে পারছিলাম না। মা-বাবা, ভাই-বোনসহ আত্মীয়-স্বজনের কাছে ঘুরেও টাকার ব্যবস্থা করতে পারিনি। যে কারণে সন্তান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। তিনি বলেন, সন্তান কিনে নেওয়ার সময় তারা একটি সাদা কাগজে আমি ও আমার স্বামী স্বাক্ষর দিয়েছি।

সন্তান কিনে নেওয়া আছকির মিয়ার বোন শামছুন্নহার বেগম বলেন, ‘আমার ভাই বিয়ে করেছে ১৮ বছর আগে। কিন্তু তাদের কোনো সন্তান হয়নি। আজ আমার মেয়েকে নিয়ে আমি ও আমার ভাই হাসপাতালে আসলে শুনি একটি বাচ্চা বিক্রি হবে। পরে আমার ভাই বাচ্চাটি কিনে নেয়।’

হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স পারভিন আক্তার জানান, ‘হাসপাতাল থেকে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সন্তান বিক্রির বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না।’

হবিগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক বলেন, ‘যারা বাচ্চা কিনে নিয়েছেন তাদের তারা বাচ্চা নিয়ে হাসপাতালে আসার অনুরোধ জানালে তারা বাচ্চাটিকে নিয়ে আসে। পরে রাত ১০টার দিকে ওই বাচ্চাটিকে তার মা-বাবার কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’

 

 

 

"

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close