চট্টগ্রাম ব্যুরো

  ২৬ নভেম্বর, ২০২০

কেডিএসের সাবেক নির্বাহী ২৬ মামলার আসামি

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী গ্রুপ কেডিএসের রোষানলে পড়ে ওই গ্রুপের মালিকানাধীন কেওয়াই স্টিল মিলের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মনির হোসেন খান একে একে ২৬ মামলার আসামি হয়ে কারাবন্দি আছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মনির হোসেন খানের বাবা অবসরপ্রাপ্ত নৌ-কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন খান। সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ৭৭ বছর বয়সি মোয়াজ্জেম হোসেন খান বলেন, ‘কেডিএস গ্রুপের রোষানলে পড়ে এক বছর ধরে বিনা বিচারে কেডিএস গ্রুপের দায়ের করা গাড়ি চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৬টি মামলার আসামি হয়ে আমার ছেলে মনির চট্টগ্রাম কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। সে আমেরিকান পাসপোর্টধারী। এখানেই শেষ নয়, মামলার আসামি করা হয়েছে আমাকে এবং আমার ছোট ভাইকেও। অথচ আমরা কখনো কেডিএসের ধারেকাছেও হাঁটিনি।’

লিখিত বক্তব্যে মোয়াজ্জেম হোসেন খান বলেন, ‘২০০৭ সালে মনির তার স্কুল বন্ধু কেডিএস গ্রুপের কেওয়াই স্টিলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমানের অনুরোধে দেশে এসে কেওয়াই স্টিল মিলের নির্বাহী পরিচালক হিসাবে যোগদান করে। ২০০৭ সালে আমার ছেলে যখন কেডিএস গ্রুপের কেওয়াই স্টিলে যখন যোগ দেয়, তখন এর মূলধন ছিল ৩০০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে তা দাঁড়ায় ১৫০০ কোটি টাকায়।’ সংবাদ সম্মেলনে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘২০১৯ সালে মনির হোসেন অ্যাপোলো স্টিল নামে একটি কোম্পানির পরামর্শক হিসেবে যোগদান করে। কোম্পানিটি পরে মুনিরের নেতৃত্বে কেওয়াই স্টিলের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠে। এতে তারা আরো ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে। কেডিএস ছেড়ে দেওয়ার জন্য নানা হুমকি দিতে থাকে। তাতে ব্যর্থ হয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি অংশকে ব্যবহার করা শুরু করে কেডিএস গ্রুপ।’

------
ছেলের বিরুদ্ধে বিগত এক বছরে কেডিএস গ্রুপ ২৬টি মামলা দায়ের করার কথা উল্লেখ করে মোয়াজ্জেম হোসেন খান বলেন, ‘২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর প্রথমে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় আমার ছেলের বিরুদ্ধে একটি গাড়ি চুরির মামলা দেয় কেডিএস। মামলায় যে সময়টা উল্লেখ করা হয়েছে, সেসময় মনির ছিল ঢাকায় আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। তার ছেলের বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানায় পাঁচটি, ঢাকার গুলশান থানায় একটি এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৯টি মামলা করে কেডিএস। ১৯ মামলায় জামিনে আছে মনির। গাড়ি চুরির মামলা ছাড়া বাকি সব মামলার এজাহারে বর্ণিত অভিযোগ অভিন্ন। মনিরের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে। আমার ছেলেকে হয়রানি করার বিষয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আমেরিকান দূতাবাস তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দিয়েছে।’ কেডিএস গ্রুপ টাকার বিনিময়ে প্রশাসনের একটি অংশকে ব্যবহার করে হয়রানি করছে জানিয়ে সাবেক নৌ-কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন খান বলেন, ‘আমাদের পুরো পরিবার আজ বড় অসহায়। মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়