মোংলা পৌরসভা নির্বাচন আটকে রাখার অভিযোগ

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন প্রথম শ্রেণির মোংলা পোর্ট পৌরসভার নির্বাচন পরিকল্পিতভাবে পাঁচ বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এই নির্বাচন নিয়ে অচলাবস্থা নিরসন ও পৌরসভার অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের নির্বাহী সদস্য সাকিলা পারভীন। আবেদনে বলা হয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণের প্রায় পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও মোংলা পৌরসভায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের খবর নেই। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হওয়ায় পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিতরা অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করছেন। এতে পৌরসভার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একইসঙ্গে সেখানে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা চলছে। তাই মোংলা পৌর মেয়রকে অপসারণ করে অবিলম্বে প্রশাসক নিয়োগসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি দেশের অন্য পৌরসভার সঙ্গে মোংলায় সাধারণ নির্বাচনে মেয়র পদে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী মেয়র নির্বাচিত হন। কাউন্সিলর পদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি-জামায়াত। তাদের মেয়াদ শেষে ২০১৬ সালে পৌরসভায় পুনরায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান মেয়র তার নিজস্ব লোক দিয়ে স্বেচ্ছায় পরিকল্পনা করে মিথ্যা ও ভুয়া সীমানা জটিলতা মামলা এবং পরে ওয়ার্ড বিভাজন চেয়ে মহামান্য হাইকোর্টে মামলা করান। এতে আটতে যায় মোংলা পৌরসভার নির্বাচন। বর্তমানে মহামান্য হাইকোর্টে মামলা খারিজ হয়েছে। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ওয়ার্ড সীমানা জটিলতা নিরসন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এরপর ওয়ার্ডে ভোটার কম বেশিসংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি করে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন গেজেট প্রকাশ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। কিন্তু দেড় মাসেও ওই গেজেট নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়নি। ফলে নির্বাচন কমিশন ওই পৌরসভার নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি।

তবে স্থানীয় সরকারের পৌর-১ শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় প্রশাসন থেকে পাঠানো সীমানা বিন্যাসসহ ওয়ার্ড বিন্যাসের গেজেট নথিভুক্ত করে তা গেজেট জারির জন্য ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন চেয়ে নথি উত্থাপন করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে নির্বাচন অনুষ্ঠানে মোংলা পৌরসভার নির্বাচনে কোনো আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নেই, তা কমিশনতে জানিয়ে শিগগিরই গেজেট পাঠানো হবে। এ গেজেট পাওয়া সাপেক্ষে নির্বাচন আয়োজন করবে কমিশন। এরই মধ্যে এ নির্বাচনটি যথাসময়ে আয়োজনে নির্বাচনের তালিকায় মোংলা পৌরসভার রাখা হয়েছে বলে কমিশন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আবেদনে আরো বলা হয়েছে, মোংলা পোর্ট পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র বিএনপি নেতা জুলফিকার নির্বাচন কার্যক্রম আটকে রাখতে তৎপর রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। পৌরসভার ক্ষমতায় বিএনপি নেতারা থাকায় উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এরই মধ্যে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের মতো কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অগ্রগতির ছোঁয়া জনগণের মাঝে পৌঁছে দিতে মোংলা পোর্ট পৌরসভায় দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে ওই আবেদনে।

 

 

"