উন্নয়নে অগ্রাধিকার পাচ্ছে অবহেলিত অঞ্চল

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অবহেলিত অঞ্চলগুলোকে টার্গেট করে উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পে এনে তড়িৎ উন্নয়নের ব্যপারে কাজ করে যাচ্ছে পরিকল্পনা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়। তৃতীয় ধাপে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আরো বেশি জোর দেয়া হয়েছে উন্নয়নে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রামেই সব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে নেয়া হয়েছে মহাপরিকল্পনা। এরই ধারাবাহিকতায় উন্নয়নে উজ্জল দেশের দক্ষিণাঞ্চল। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, প্রকৃতিক সম্পদে ভরপুর অন্ধকারে নিমজ্জিত, দক্ষিন অঞ্চলকে আলোকিত করতে প্রথমেই যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যপক উন্নয়ন ঘটাতে নেয়া হয় নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্প। সেই আলোকেই পদ্মা সেতু আজ প্রায় বাস্তবায়নের দ্বার প্রান্তে। ইতিমধ্যেই অসংখ্য ছোট বড় সেতু নির্মান সম্ভাব হয়েছে। রেললাইনের কাজ হচ্ছে। যেগুলোর অভাবে বিদেশি পর্যাটক তো দূরের কথা, পটুয়াখালী নিজ জেলার মানুষও উপভোগ করতে পারত না, দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সমুদ্র সৈকত, কুয়াকাটার নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখা যায়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় বলেছিলেন, এই দক্ষিণ অঞ্চল ছিল সম্পূর্ণভাবে অবহেলিত, যখনই আমরা সরকারে এসেছি এই দক্ষিণ অঞ্চলের বাস্তবায়নে উন্নয়ন কর্ম করে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান সবার উন্নয়ন। বিশেষ করে অবহেলিত মানুষের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর রয়েছে। আমরা চাই উপকুলীয় মানুষের আরো বেশি উন্নয়ন হোক। দক্ষিণাঞ্চলকে জাতীয় অর্থনীতিতে যুক্ত করতেই পদ্মা সেতুসহ বড় বড় প্রকল্প নেয়া হয়েছে। আমরা চাই মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন বলে জানান মন্ত্রী।

সূত্র আরো জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে মহাপরিকল্পনায় যুক্ত করেছেন, আধুনিক সব সুযোগ নিয়ে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা, পায়রা সমুদ্র বন্দর, একাধিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ রয়েছে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। শেখ হাসিনা সেনা নিবাস, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, জাহাজ নির্মাণ শিল্পসহ অসংখ্য উন্নয়ন কর্মকান্ড। যা অনেকটা ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গেছে। সেই সাথে সুপ্রশস্ত রাস্তা। পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে শিল্পায়ন, কুয়াকাটা ও সোনারচর ঘিরে পর্যটন জোন আর কৃষি ও মৎস্য সংরক্ষণে শিল্প স্থাপন হলে পটুয়াখালী হবে দেশের অর্থনীতির নতুন স্পন্দন। এছাড়া পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নের জন্য ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নির্মিয়মান ‘বানৌজা শের-ই-বাংলা’ একটি নৌঘাঁটি স্থাপিত হচ্ছে। ৫০০ একর জমির এটি ঘাঁটিটি হবে নৌবাহিনীর বৃহত্তম নৌঘাঁটি। এর মধ্যে ২০০ একর নৌবাহিনীর জন্য এবং ৩০০ একর নৌবিমানচালনা ও ডুবোজাহাজ অপারেশনের জন্য ব্যবহৃত হবে। আর প্রধানমন্ত্রীর এই স্বপ্নকে বাস্তবায়নে রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। জেলার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রতিনিধিরা।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী সদরকে অরো কার্যকর এবং দৃষ্টি নন্দনের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নিয়েছে বেশ কিছু পরিকল্পনা। যা সদর উপজেলার সাথে কালিকাপুর ইউনিয়নকে জেলা সদরের সাথে সরাসরি সংযুক্ত করার পাশপাশি জেলার ঐতিহ্যবাহী বহালগাছিয়া খালকে আবারও তার স্বাভাবিক অস্থায় ফিরিয়ে আনতে সদর উপজেলার পেছনের বাঁধটি অপসারন করে সেখানে ৮১ মিটার দীর্ঘ একটি দৃষ্টিনন্দন ব্রীজ নির্মান করা হবে। একই ভাবে বহালগাছিয়া খালের উপরনির্মিত গ্যারের বাঁধ অপসারন করে সেখানেও ৮১ মিটার দীর্ঘ একটি ব্রীজ নির্মান করা হচ্ছে। যা অনেকটা হাতিরঝিলের ব্রীজ গুলোর মত সকলকে আকর্ষন করবে। এছাড়া মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের সাথে পটুয়াখালী পৌর শহরকে সংযুক্ত করতে কুরিরখাল এলাকায় একটি ৪৫ মিটারের ব্রীজ নির্মিত হবে। এর ফলে জেলা শহরের সাথে ছোটবিঘাই, বড়বিঘাই, মরিচবুনিয়া এবং মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নতুন একটি সংযোগ স্থাপতি হবে। একই ভাবে পটুয়াখালী পৌরসভার সাথে কালিকাপুর ইউনিয়নের নতুন সংযোগ স্থাপন এবং ফুলতলা খালটি প্রবাহমান করতে বাঁধ অপসারন করে সেখানে ৪৫ মিটারের একটি ব্রীজ নির্মান করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এমন গুরুত্ব বিবেচনা করে মোট ১২ টি ব্রীজ নির্মানের জন্য ইতি মধ্যে টেন্ডার আহবান করে যাবতীয় কার্য সম্পাদন করা হচ্ছে। এ সকল ব্রীজ নির্মিত হলে এই অঞ্চলের মানুষের সড়ক যোগাযোগ যেমন সহজ হবে পাশপাশি খাল গুলো আবারও তার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে পাবে। খালের দখল হওয়া জমি পুনরুদ্বার করে কৃষি কাজে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের আইবিআরপি প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হাই জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শতবর্ষ পরিকলল্পনাকে বাস্তরে রুপ দিতে গ্রামেও শহরের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং খাল ও জলাধার গুলোকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই আমরা এই ব্রীজ গুলো নির্মান করছি। এতে আমরা নতুন কিছু বিষয়ও যুক্ত করেছি। যেমন, একটি ব্রিজে যে খরচ হয়, তারসাথে আরো কিছু অর্থ যোগ করে সেতুটি একটু দৃষ্টি নন্দন করতে ব্যবস্থা নিয়েছি।

 

"