দুর্নীতির ইচ্ছা থাকলে তওবা করুন : সুজন

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) কর্মরত যারা দুর্নীতি করছেন তাদের আজ থেকে তওবা করার আহ্বান জানিয়েছেন সদ্য নিযুক্ত প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

খোরশেদ আলম সুজন বলেন, আমি কিন্তু উদার না, যারা দুর্নীতি করছে তারা তওবা করে ফেলুন আজ থেকে। যারা দায়িত্বের সঙ্গে বেইমানি করবেন তাদের ছাড় দেব না, ক্ষমা করব না। না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দেব, তবু অন্যায়ের সঙ্গে আপসন করব না। অপরাধ করাটা অপরাধ না তা স্বীকার না করা অপরাধ মন্তব্য করে সুজন বলেন, এখানে যারা আছেন সবাই জ্ঞানী-গুণী মানুষ, আপনাদের জ্ঞান-প্রজ্ঞাকে কাজে লাগান। আজ সকালে আসার সময় নিউমার্কেট জিপিওয়ের সামনে ময়লা দেখেছি সকাল ৯টার সময়। কেন এত সকালে ময়লা থাকবে। পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাদের আহ্বান জানাব, ভবিষ্যতে এ ময়লা আর দেখতে চাই না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নাছির ভাই অনেক কাজ করছে, সেটা সফল করতে হবে।

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন বলেন, যেদিন বৃষ্টি হবে সেদিন আমিও থাকব, কোথায় পানি জমছে তা সরেজমিন দেখব। ঘরে বসে কাজ করার দিন শেষ। আমরা মহিউদ্দিন চৌধুরীর কর্মী, কীভাবে কাজ করতে হয় তা আমরা জানি।

চসিককে দলীয় কার্যালয় বা পারিবারিক করা হবে না জানিয়ে সুজন বলেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আমার সঙ্গে চসিকের গেট পর্যন্ত আমার ছেলে এসেছে, তাকে ভেতরে ডুকতে দিই নাই। এখানে তার কোনো কাজ নেই, ঘরে বসে তাদের সঙ্গে লুডু খেলব, কিন্তু এখানে আপনারা সব আমার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এক দিনের মিনিস্টার সিনেমায় দেখেছি, আমি ১৮০ দিনের প্রশাসক। প্রত্যেক দিন, প্রত্যেক মুহূর্তে কাজ করব চ্যালেঞ্জ নিয়ে। খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করার জন্য বিএসটিআইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। এক সপ্তাহ ১০ দিন গেলে বুঝবেন আমি কি করতে পারব কি পারব না। সুজন আরো বলেন, সবচেয়ে আশার কথা যিনি আমাকে দায়িত্ব দিয়ে এখানে পাঠিয়েছেন তিনিই এ শহরের দায়িত্ব নিয়েছেন। কাজেই উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করার কারণ নাই। আমাকে পুকুরে নামতে দেন, নামার পরে দেখবেন কিভাবে সাঁতরাব।

গত ৫ বছর মেয়র নাছির অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন উল্লেখ করে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, মেয়াদ শেষ হলে সবাইকে দায়িত্ব ছাড়তে হবে। কিন্তু কর্মকর্তা যারা আছেন তারা থাকবেন সব সময়। আমাকে সহযোগিতা করবেন আশা করি। প্রশাসক বা মেয়র হচ্ছে শীর্ষ পদ। প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত প্রশাসক হিসেবে সবার কাছে আন্তরিক সহযোগিতা চাচ্ছি। চসিককে দলীয় কার্যালয় বানাব না, রাজনীতি করব পার্টি অফিসে। এখানে সেবা দেওয়ার জন্য কাজ করব।

তিনি বলেন, শৈশব, কৈশোর এ শহরে কাটিয়েছি। আমার কাছে এ শহরের গুরুত্ব অনেক। অনেকে বলেন, চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা প্রধান সমস্যা কিন্তু আমি এ শহরে জলাবদ্ধতা দেখি না, যা হয় সেটা জলজট। কিছুক্ষণ জমে থাকার পর কয়েক ঘণ্টা পর তা নেমে যায়। এ জলজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী বিশাল বাজেটের কাজ দিয়েছেন, যা সেনাবাহিনী করছে। আশা করি জলজট সমস্যা আগামী বছর থেকে অনেকটা সমাধান হবে। আগামী ৫ বছর পর এ শহর সিঙ্গাপুরের চেয়ে উন্নত শহর হবে।

গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সুজন বলেন, সমালোচনাকে আমি ভয় পাই না। তবে যৌক্তিক সমালোচনা আশা করব। নগরের সমস্যাগুলো তুলে ধরবেন, আমার সময় ১৮০ দিন। সময়টা কাজে লাগাতে চাই। মানুষ হিসেবে ভুল হতে পারে। ভুলগুলো তুলে ধরবেন আপনারা। আল্লাহ পাক অনেক দিয়েছেন। এখন মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। কেউ আমাকে সন্ত্রাসী বলে না। এটাই আমার তৃপ্তি।

 

"