করোনা সতর্কতা

খাসকামরায় নথি দেখে আদেশ দিলেন হাইকোর্ট

প্রকাশ | ২৫ মার্চ ২০২০, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে গতকাল মঙ্গলবার আইনজীবীদের উপস্থিতি ছাড়াই খাসকামরায় বসে নথি দেখে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চ। এই দুটি আদালতের খাসকামরায় আইনজীবীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

যেসব মামলায় আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হয়েছে সেসব ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলায় আদেশের তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তিনটি বেঞ্চ প্রকাশ্য আদালতে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে আদেশ দেন।

বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এবং বিচারপতি মো. বদরুদ্দোজার একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল খাসকামরায় বসে মামলার নথি থেকে আদেশ দেন। এরই মধ্যে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট গত সোমবার প্রকাশ্য আদালতেই ঘোষণা দেন মঙ্গলবার খাসকামরায় বসে নথি দেখে আদেশ দেবেন। এই ঘোষণা অনুযায়ী এই বেঞ্চ খাসকামরায় বসে আদেশ দেন।

এছাড়া বিচারপতি মো. বদরুদ্দোজার বেঞ্চের দরজায় নোটিস টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এই বিচারপতির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. রবিউল আউয়ালের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে, করোনা সতর্কতার অংশ হিসেবে বিচারপতি মো. বদরুদ্দোজা অদ্য আদালতের এজলাসে আসন গ্রহণ না করে খাসকামরায় বসে অদ্যকার কার্যতালিকায় শুনানির জন্য নির্ধারিত মামলাগুলো পর্যালোচনা করে যথাসময়ে আদেশ প্রদান করবেন। এরপর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মামলার ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।’

আদালতগুলো ঘুরে দেখা যায়, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এবং বিচাপরতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এজলাসে বসে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে শুনানি গ্রহণ করছিলেন। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চের নোটিসে বলা হয়, ‘করোনাভাইরাসের কারণে ২৪ ও ২৫ মার্চ কোনো আগাম জামিনের আবেদন গ্রহণ করা হবে না।’

করোনাভাইরাসের কারণে বিচারক, আইনজীবী ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সুপ্রিম কোর্ট ও নি¤œ আদালতগুলোতে বিচার কাজ সীমিত করা হয়েছে। গত ২২ মার্চ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম পৃথকভাবে সাক্ষাত করেন। ২৩ মার্চ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাত করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন ও সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। এ অবস্থায় ২২ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট থেকে নি¤œ আদালতে জামিন ও জরুরি বিষয় ছাড়া মামলার বিচারকাজ মূলতবি রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এরও আগে গত ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি প্রিজন ভ্যান বা অন্য কোনোভাবে কারাবন্দি আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির না করতে দেশের সব অধস্তন আদালতের প্রতি নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আসামিদের কারাগারে রেখেই জামিন শুনানি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর সুপ্রিম কোর্টে চলমান অবকাশের মেয়াদ বাড়ানো হবে কি-না, সেবিষয়ে দুই-একদিনের মধ্যেই প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

 

"