রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

  ১০ জুলাই, ২০২৪

সিএইচটি রেগুলেশন ১৯০০ বাতিলে রিভিউ পিটিশন

পার্বত্য জেলাবাসীর প্রতিবাদ অবস্থান ধর্মঘট আজ

১৯০০ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের তৈরি ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম (সিএইচটি) রেগুলেশনে’ দেশের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত পাহাড়িদের প্রথাগত আইন, রীতিনীতি ও ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় আইনটি অকার্যকর করতে সুপ্রীম কোর্টে রিভিউ পিটিশন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজা, হেডম্যান ও কার্বারির পদবি বিলুপ্তিসহ পাহাড়িদের প্রথাগত আইন, রীতিনীতি ও ঐতিহ্য-সংস্কৃতি মুছে দিতে চাচ্ছে। এতে অস্তিত্বের সংকটে পড়বে পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারগুলো।

রাঙামাটিতে এক মানববন্ধনে এই মন্তব্য করেন পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘চাকমা সার্কেল প্রথাগত নেতা ও সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী ওই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। একই দাবিতে গতকাল সকালে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাব এলাকায় মানববন্ধন করেছে হেডম্যান, কার্বারি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা। পরে জেলা প্রশাসক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি দেন তারা। এতে আদালতের মাধ্যমে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম (সিএইচটি) রেগুলেশন ১৯০০’ বাতিলে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে দাবি করে ‘অপচেষ্টা’ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে সিএইচটি রেগুলেশন ১৯০০ বাতিল চেষ্টার বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভণ্ডসমাবেশ করেছে ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠন। গতকাল সকালে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা, রামগড়, মহালছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি এবং রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, কুতুকছড়ি, কাউখালী ও নানিয়ারচরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সিএইচটি রেগুলেশন ১৯০০ বাতিল চেষ্টা প্রতিবাদে আজ বুধবার পার্বত্য তিন জেলায় সড়কে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি আহ্বান করেছে ইউপিডিএফ।

রাঙামাটিতে মানববন্ধনে পাহাড়ের প্রথাগত নেতা ছাড়াও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাসহ পার্বত্য তিন জেলার বিভিন্ন পেশাশ্রেণির কয়েকশ মানুষ এতে অংশ নেয়। এতে বক্তারা বলেন, সিএইচটি রেগুলেশন ১৯০০-এর মাধ্যেমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা যুগ যুগ ধরে নিজেদের প্রথাগত আইন মেনে সমাজ ব্যবস্থা চালাছে। ওই আইনটির সঙ্গে পার্বত্য জেলা পরিষদ, আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়গুলো ওতপ্রোতভাবে সম্পর্ক রয়েছে। এই আইন বাতিল করতে হলে এসব প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

রাঙামাটিতে মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, জেলা হেডম্যান অ্যাসোশিয়েশন সিএইচটি নেটওয়ার্কের সভাপতি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চিং কিউ রোয়াজা, এম এন লারমা মেমোরিয়েল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, বিশিষ্ট কলামিস্ট শিশির চাকমা, হেডম্যান অ্যাসোশিয়েশন সিএইচটি নেটওয়ার্কের লংগদু শাখার সিরাজুল ইসলাম ঝন্তুসহ অন্যরা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা হেডম্যান অ্যাসোশিয়েশন সিএইচটি নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা।

খাগড়াছড়িতে জেলা হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি সাইথোয়াই চৌধুরী, জেলা কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রনিক ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী হেডম্যান-কার্বারি নেটওয়ার্কের জয়া ত্রিপুরা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ধীমান খীসা, আইনজীবী সুপাল চাকমা, কার্বারি সবিনয় চাকমা, সমাজকর্মী আনন্দ মোহন চাকমা বক্তব্য দেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close