রবিউল ইসলাম, টঙ্গী (গাজীপুর)

  ০৯ জুলাই, ২০২৪

টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ

অছাত্র, বিবাহিতরা কমিটিতে প্রতিবাদে পদত্যাগ নেতার

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কমিটিতে বিবাহিত ও অছাত্রদের স্থান দেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে বিএনপির অনুপ্রবেশকারী কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে বলছেন সংগঠনের নেতারা।

এদিকে দীর্ঘদিন পরিশ্রম করা কর্মীদের মূল্যায়ন না করায় কমিটি ঘোষণার পরই অব্যাহতি নিয়েছেন নতুন কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পাওয়া ইসমাঈল হোসেন মৃধা। তবে থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দীন মোহাম্মদ নীরব বলছেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতার পরামর্শে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিতর্কিত কেউ থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে শুক্রবার সকালে টঙ্গী পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক দীন মোহাম্মদ নীরব এক বছরের জন্য নতুন কমিটির অনুমোদন দেয়। এতে ফাহিম সরকারকে সভাপতির ও ইসরাফিল হোসেন সোহানকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে ১১ জন সহসভাপতি, ১০ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ৯ জন সাংগঠনিক সম্পাদক ও একজন দপ্তর সম্পাদক পদ পেয়েছেন।

সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে হলে তাকে অবশ্যই শিক্ষার্থী, অবিবাহিত ও বয়স সর্বোচ্চ ২৯ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল হোসেনের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রত্ব নেই। একই অভিযোগ এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবির হোসেন রাজের বিরুদ্ধেও।

এছাড়া অতীতে সংগঠনের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিলের। তিন-চার মাসে থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিক তালুকদারের কাছে দেনদরবার করে টাকার বিনিময়ে কমিটির শীর্ষ পদ বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের।

পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা জানান, ইসরাফিল হোসেন সোহান ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের একজন বালু ব্যবসায়ী ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাবেক কাউন্সিলর প্রার্থী মাসুদ রানার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করে এই কমিটিতে পদ বাগিয়ে নেন।

এছাড়া কমিটির এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবির হোসেন রাজ একজন অছাত্র। তিনি যুবদল থেকে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী বলে অভিযোগ আছে। বেশ কিছুদিন ধরে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে রাজের সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হতে দেখা গেছে। জানা গেছে, রাজের চাচা টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন ভাসানী। তার সঙ্গে প্রায়ই যুবদলের মিছিল-মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতেন রাজ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংগঠনিক সম্পাদক শিপুর পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

এছাড়া কমিটিতে স্থান পাওয়া অনেকেই বিবাহিত বলে নিশ্চিত হওয়ার গেছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও কারবারিরে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ গেছে। কমিটিতে জায়গা পাওয়া সহসভাপতি শাহীন আলম, মো. বাইজিদ হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জান্নাতুল ফেরদৌস শিপু বিবাহিত। তাদের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ও স্ত্রীর সঙ্গে তোলা বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ঘুরছে।

এদিকে কমিটি গঠনের দুই ঘণ্টা পর নতুন কমিটির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে নিজ পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইসমাঈল হোসেন মৃধা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি এর সুষ্ঠু বিচারও দাবি করেন।

পদত্যাগের বিষয়ে জানতে ইসমাঈল হোসেন মৃধার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। প্রতিদিনের সংবাদকে তিনি বলেন, ‘গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়া কর্মী সম্মেলনে মহানগর ছাত্রলীগের কাছে যারা বায়োডেটা (পরিচয় বিবরনী) দেয়নি তারাই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হয়েছে। মাত্র দুই থেকে তিন মাসের ব্যবধানে কমিটির সাধারণ সম্পাদক পথ পেয়েছে একজন।’

ইসমাইল মৃধা আরো বলেন, ‘কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু সেই টাকা আমরা দিতে পারিনি। টাকার কাছে হেরে গেছে আমার পরিশ্রম।’

নবনির্বাচিত ওয়ার্ড কমিটি সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল হোসেন সোহানের কাছে তার ছাত্রত্বের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তিনি জানান, হাজী কছিম উদ্দিন কলেজ থেকে ২০১৯ সালে পড়াশোনা শেষ করে বের হয়েছেন তিনি। এরপর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হননি। প্রায় সাত-আট বছর ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আছেন দাবি করলেও তিনি বিগত দিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি।

কমিটিতে অনিয়মের বিষয়ে জানতে টঙ্গী পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দীন মোহাম্মদ নীরবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘যিনি (ইসমাইল মৃধা) অব্যাহতি নিয়েছেন তিনি অনেক সিনিয়র ছিলেন। আমরা বলেছি, থানার পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাকে রাখব।’

থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিক তালুকদার বলেন, ‘কেডা কেডা বিএনপি করছে আপনি আমারে তাগো ছবিগুলো দেখান। কেডা বিবাহিত তাদের ছবিগুলোও দেন। আমি দেহি।’ তার চাহিদামতো তথ্য প্রমাণ তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানো হলে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও তিনি এড়িয়ে যান।

গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মোশিউর রহমান সরকার বাবু বলেন, ‘কমিটি গঠনের অনিয়মের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close