কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

  ০৮ জুলাই, ২০২৪

কুষ্টিয়ার কুমারখালী

অবহেলায় চড়াই কোল স্টেশন

জরাজীর্ণ ভবনে পরিণত হয়েছে মাদকসেবীদের আড্ডা

স্টেশনটিতে ঘাস লতা আর শেকড়বাকরে আষ্টেপিষ্টে লাল ইটের দেয়াল হয়েছে ফিকে। ফটো টিনের চালা, ভাঙ্গা জানালা, যত্রতত্র ময়লার স্তুপ, জীর্ণশীর্ণ বোর্ডের সময়সূচী। এখানে এখন কোনো ট্রেন থামে না। তাই বাজে না বাঁশি, জলে না পোস্টের বাতি। নেই স্টেশন মাস্টার তাই বিক্রি ও হয় না টিকিট। বলা হচ্ছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চড়াই কোল স্টেশনের কথা।

জানা গেছে, ১৮৭১ সালে পদ্মা ও যমুনার সংযোগস্থলে অবস্থিত গোয়ালন্দঘাট পর্যন্ত ৭৫ কিলোমিটার রেল লাইন উদ্বোধনের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয় চড়াইকোল স্টেশনটি। ব্রিটিশ আমলে তৈরি যাত্রীতে ঠাসা এই চড়াই কোল স্টেশনে স্টেশনে ছিল ব্যবসা-বাণিজ্য। পণ্যের ওঠা নামাতে মুখরিত থাকত স্টেশন চত্বর। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় প্রেক্ষাপট গিয়েছে উল্টে। এখন এখানে থামেনা কোন এক্সপ্রেস ট্রেন। একটি মাত্র লোকাল ট্রেন যাত্রা বিরতি দিলেও স্টেশনের বেহাল হওয়ায় যাত্রীদের বেগ পেতে হয় উঠানামায়। এছাড়া অযত্নে নষ্ট হচ্ছে রেলের মূল্যবান যন্ত্রাংশ, চুরি হচ্ছে মালামাল। পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ভবন পরিণত হয়েছে মাদক সেবীদের আড্ডাখানায়। এতে নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি টাকার সম্পদ।

দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন মাস্টারের পরিত্যক্ত কক্ষে বসবাস করা ভিক্ষুক আকরাম হোসেন জানায়, মাস্টার রোলের চাকরি শেষে চলে যান স্টেশনমাস্টার। তখন থেকেই সারাদিন ভিক্ষা শেষে রাতে এই কক্ষে থাকেন তিনি। মাঝে মাঝে খালাসী এসে মালপত্র রেখে যায়, সেগুলির পাহারা দেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই রেলস্টেশনটির দ্রুত সংস্কার হোক। সেইসঙ্গে স্টেশনটিতে যাত্রা বিরতি দিক এক্সপ্রেস সহ লাইনে চলা প্রতিটি ট্রেন।

চড়াইকোল স্টেশন বাজারের সাবেক সভাপতি মোতালেব হোসেন। ২৫ বছরের অধিক সময় ধরে স্টেশন সংলগ্ন বাজারটিতে ব্যবসা করছেন তিনি। মোতালেব হোসেনের অভিমত, শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি, মীর মশারফ হোসেনের বাস্তবভিটা, বাউল সম্রাট লালন শাহের মাজারসহ বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থান স্টেশনটির কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে হওয়ায় স্থানীয়দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের কাছে এটি গুরুত্ব বহন করে। এই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে স্টেশনটি রয়েছে আলাদা কদর। সকল দিক বিবেচনায় দ্রুত স্টেশনটি সচল করার দাবি জানান তিনি।

রাজবাড়ী ২ আসনের সাংসদ ও রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম জানান, স্টেশন মাস্টার, লোক মাস্টার (ড্রাইভার), পয়েন্টস ম্যান, গার্ডসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সেটি সম্পন্নের পর পর্যায়ক্রমিকভাবে এ ধরনের সকল স্টেশন চালু করা হবে বলে জানান তিনি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close