অলিউজ্জামান রুবেল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

  ০৮ জুলাই, ২০২৪

শিবগঞ্জে তেলকুপি কলমদর আলিম মাদরাসা

সভাপতি ও অধ্যক্ষের আত্মীয়রা প্রার্থী, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার তেলকুপি কলমদর আলিম মাদরাসার সভাপতি ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ১৯ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রমজান আলী।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, পদগুলোর মধ্যে অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে মাদরাসার অধ্যক্ষের ছেলে জাহিদ হাসান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে মেয়ে শারমিন খাতুন, গবেষণা/ল্যাব সহকারী পদে সভাপতির মেয়ে জলিয়ারা খাতুন জলি, জামাতা মাইনুল ইসলাম, নিরাপত্তাকর্মী পদে নাতী গোলাম রাব্বানী, ভাতিজা আবদুল কুদ্দুস, ভাতিজা ইসমাইল, চাচাতো ভাই মিজানুর, আতিকুল ইসলাম জিহাদ, অধ্যক্ষের আত্মীয় শাহিন আলম, শহিদুল ইসলাম, শওকত আলী, আয়া পদে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য গোলাম মোস্তফার ভাতিজা-বৌ পলিয়ারা বেগম ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে চাকরিরত ইব্রাহিমের সহোদর তারিক হাসান দরখাস্ত করেন। পাঁচ পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১৪ প্রার্থী।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অধ্যক্ষ আবদুর রহিম ও মাদরাসা কমিটির সভাপতি মানিকুল ইসলাম মানিকের যোগসাজশে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, গবেষণা/ল্যাব সহকারী, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া পদে গোপনে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এ নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে মাদরাসাটির শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবক ও এলাকাবাসী কিছুই জানেন না। সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিয়োগ দেওয়ার পায়তারা করছেন সভাপতি ও অধ্যক্ষ।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, নিয়োগের জন্য মাদরাসার নোটিশ বোর্ডে কোনো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। এমনকি দৈনিক মানবজমিন ও স্থানীয় একটি পত্রিকায় যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, তাও স্থানীয় বাসিন্দারা জানতে পারেননি। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাদের নিয়োগ নিশ্চিতে কাজ করেছেন অধ্যক্ষ ও সভাপতি।

এছাড়া মাদরাসার আশেপাশের সাধারণ পরিবারের অনেক প্রার্থী দরখাস্ত করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় গত ৬ জুন শিবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন অভিভাবক অসিনুর রহমান এম। মাদরাসাটির পাশের বাসিন্দা আহসান হাবিব বলেন, বিদ্যালয়ের সঙ্গেই আমার বাড়ি অথচ আমরা জানি না, এখানে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাজিরুদ্দিন, সুমন, তুহিন ও মিঠুনসহ অন্তত ১০-১২ জন অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ নিজ ইচ্ছামতো সব কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

অধ্যক্ষ আবদুর রহিম জানান, নিয়োগ-বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সঠিক নয়। গত ১৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকায় নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি টাঙানো হয়নি। ছুটির পরে বিজ্ঞপ্তিটি টাঙানো আছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া গোপনে সম্পন্ন করেছেন কিনা এ বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

মাদরাসার সভাপতি মানিকুল ইসলাম মানিক স্বজনপ্রীতির অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, ‘নিয়ম মেনেই সবকিছু করা হচ্ছে। পক্ষে-বিপক্ষে কিছু লোক থাকে। আমি শাহাবাজপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ১০০ ভাগ ফেরেশতা নয়; আমিও কারো পক্ষে-বিপক্ষে।’ এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মুরশিদুল আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল হোসেন বিষয়টি তদন্ত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহে তিনি বদলি হয়ে যাওয়ায় তদন্ত থেমে আছে। এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত আছে বলে জানা যায়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close