কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

  ০৭ জুলাই, ২০২৪

পটুয়াখালীর কলাপাড়া

হস্তান্তরের আগেই উঠে গেছে রাস্তার কার্পেটিং

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মহিপুরের বিপিনপুর হয়ে নিজামপুরের সাড়ে তিন কিলোমিটার পাকা রাস্তার মেরামতে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে রাস্তা আবারও কার্পেটিং না করলে ঠিকাদারের বিল আটকে দেওয়ার কথা জানান কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম।

সরেজমিনে জানা গেছে, ওই রাস্তা পাকাকরণের জন্য টেন্ডার দেওয়া হয় পটুয়াখালীর ‘মেসার্স শহিদুল এন্টারপ্রাইজ’কে রাস্তা মেরামতের জন্য এক কোটি ৩৩ লাখ টাকা বাজেট দেওয়া হয়। কিন্তুরাস্তার এমন দুর্গতি দেখে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের। অধিকাংশ রাস্তার বিটুমিন ওঠে পায়ের চাপে নড়ে যাচ্ছে। রাস্তা এ যেন কাঁদার ওপরে আলগা করে বিটুমিন রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। আবার অনেক যায়গায় খুঁড়ে দেখা মেলেনি ইট বালুর। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবি অতিরিক্ত বৃষ্টিতে রাস্তার এমন দশা হয়েছে। তাই রাস্তা মেরামত না করে বিল তুলবেন না তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার মহিপুর আলিপুরের মৎস্য বন্দর ও কুয়াকাটা যাওয়ার অন্যতম একটা ব্যস্ততম ওই রাস্তা। এখান থেকে দুটি জেলার হাজার মানুষের যাতায়াতের এ রাস্তায়। দীর্ঘ বছর পড়ে এত টাকার বাজেটের রাস্তার এমন দশা শুধু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালীর জন্য। তাদের দাবি ইউএনওর কাছে রাস্তা ভালো করে মেরামত না করে যেন বিল তুলতে না পাড়েন ওই প্রতিষ্ঠান।

মহিপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি নাশির উদ্দিন বলেন, ‘রাস্তাটি আমার বাসার সামনে, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তার সংস্কার করা হয়েছে।’

স্থানীয় বৃদ্ধ আলমাস হাওলাদার অভিমানে বলেন, ‘অনেক বছর কষ্ট করে রাস্তার সংস্কার হচ্ছে, তবে ঠিকাদার যা করছে রাস্তা তার চেয়ে আগের ভাঙ্গা রাস্তাই ভালো ছিলো।’

এদিকে শহিদুল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আসলে আমরা কাজটি সাবকন্টাক্ট দিয়েছি। তাদের গাফেলতির কারণে রাস্তাটির এমন দশা হয়েছে। আমরা আবার রাস্তা মেরামত করে, পরে বিল তুলবো।’

কলাপাড়া এলজিইডি সার্ভেয়ার আলামিন জানান, রাস্তাটির বিটুমিন ওঠে যাওয়া সহ সব সমস্যার সমাধানের পড়েই রাস্তা বুঝে নেওয়া হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম জানান, রাস্তার অনিয়মের ঘটনা শুনে সরেজমিনে সত্যতা পেয়েছেন তিনি। রাস্তাটি যেহেতু সংস্কার করার সুযোগ আছে তাই তাদের রাস্তা সংস্কার করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা যখন জানাবে রাস্তা ঠিক আছে, তখনই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল তুলতে পাড়বেন বলে জানান তিনি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close