গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

  ২২ জুন, ২০২৪

গঙ্গাচড়ায় অভিযোগ

রিলিফের গরুর মাংস বিতরণে অনিয়ম

৯ ইউনিয়নে ৯১০ পরিবারের মধ্যে ২ কেজি করে মাংস বিতরণ করা হয় * বরাদ্দ ১৫ লাখ ৮ হাজার টাকা

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ এর বিরুদ্ধে গরিব ও হতদরিদ্রদের মধ্যে মাংস বিতরণে স্বজন প্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

গত মঙ্গলবার ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন দুপুরে উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ২৬টি গরু ৯১০ জন অসহায়-দুস্থদের মধ্যে কোরবানি গরুর মাংস বিতরণ করেন সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান বাবলু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ তামান্না।

জানা যায়, ইসলামিক রিলিফের মাংস বিতরণের তালিকায় অনিয়ম, মাস্টার রোলের সঙ্গে স্লিপের মিল নাই, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক কর্মীদের নামে ও নিজস্ব লোকজনের মধ্যে ২ কেজি করে গরু মাংস বিতরণ করা হয়।

এক ভুক্তভোগী বিধবা বলেন, ‘মুই গেছনুং গোস্তের আশায়। খালি হাতে আসনুং।’

নোহালী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ জানান, তপন মেম্বার গঙ্গাচড়া উপজেলা থেকে ইসলামি রিলিফের দুই বস্তা মাংস নিয়ে আসি বাড়ির ভিতরে নিয়ে যান। তাদের নেতাকর্মীদের মাংস ভাগ দিয়েছে।

ইসলামী রিলিফের মাংস বিতরণে বেতগাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোহাইমিনুন ইসলাম মারুফ বলেন, এবার আমাদের না দিয়ে আসাদুজ্জামান বাবলু এমপির লোক দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নোহালী ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, এমপির ডিও দিয়ে ২৬টি গরু নিয়ে এসেছেন তাই ইসলামিক রিলিফ গঙ্গাচড়া ম্যানেজার এরশাদুল ইসলাম আমাকে বলেছেন মাংস বিতরণে আমার কোনো করণীয় নেই।

গজঘন্টা ইউপি চেয়াম্যান লিয়াকত আলী বলেন, ইসলামি রিলিফ প্রতিবারে আমাদের গজঘন্টা পরিষদের মাধমে ২ হাজার পরিবারের মধ্যে মাংস বিতরণ করেন। এবার তারা কিছুই বলল না।

মর্ণেয়া ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান বলেন, আমি ফেসবুকে দেখলাম। এবারে আমার্দে কোনো সহযোগিতা নেয়নি।

গঙ্গাচড়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাজাহরুল ইসলাম লেবু বলেন, ইসলামি রিলিফের মাংস উপজেলা পরিষদ থেকে বিতরণ করা হয়েছে কিন্তু গঙ্গাচড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাংস বিতরণ করা হয়নি।

লক্ষীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আবাদুল্লাহ আল হাদী বলেন, প্রতি বছর সাবেক এমপি সাহেবের ডিও লেটার দিয়ে পরিষদের মাধ্যমে ইসলামী রিলিফের মাংস এতিম দুস্থদের তালিকা তৈরি করে বিতরণ করা হয়। এবার বর্তমান এমপি সাহেবের ডিও লেটার দিয়ে গরু নিয়ে আসায় তাদের লোকজন দিয়ে তালিকা তৈরি করে মাংস বিতরণ করা হয়েছে।

কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ জানান, ইসলামি রিলিফের লোকজন তাকে জানায়নি, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

বড়বিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদ চৌধুরী দ্বীপ বলেন, গত বছর আমরা পরিষদে তালিকা করে অসহায় দুস্থদের মধ্যে ইসলামি রিলিফের মাংস বিতরণ করে ছিলাম এবার আমার কাছে কোনো লোক আসেনি।

উপজেলা ইসলামিক রিলিফ গঙ্গাচড়া আলোগ্লাস প্রজেক্ট ম্যানেজার এরশাদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় এমপির ডিও এর মাধ্যমে ২৬টি গরু নিয়ে আসেন। প্রতিটি গরুর ক্রয় মূল্য ৫৮ হাজার টাকা করে মোট বরাদ্দ ১৫ লাখ ৮ হাজার টাকা।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ তামান্না বলেন, ইসলামি রিলিফের গরু এবার এমপি আসাদুজ্জামান বাবলু স্যার ডিও দিয়ে এনেছেন। তাই, স্যারের লোক দিয়ে তালিকা করেছেন। আমি ম্যানেজারকে বলেছি, মাংস বিতরণের কোনো কাগজে স্বাক্ষর করব না।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close