ফরিদপুর প্রতিনিধি 

  ১৬ জুন, ২০২৪

সড়কের কাজে নিম্নমানের ইট ও বালি ব্যবহার

ফরিদপুরের সালথার গট্টি ইউনিয়নের মাদ্রাসা গট্টি থেকে রসুলপুর বাজার পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার সড়কের কাজে নিম্নমানের ইট ও বালি ব্যহারের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের মধ্যে তড়িঘড়ি করে ঠিকাদার কাজ করছেন বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। তবে সড়ক নির্মাণে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না বলছেন উপজেলা প্রকৌশলীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মাদরাসা গট্টি থেকে রসুলপুর পর্যন্ত সড়কের কাজ পায় গোপালগঞ্জের বাসিন্দা এক ঠিকাদারের প্রতিষ্ঠান ‘কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স’। প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুর রহমান, নাজমুল মাতুব্বর, নিজাম উদ্দিনসহ কয়েকজন জানান, মাদ্রাসা গট্টি- রসুলপুর বাজার সড়কের নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট বালি ব্যবহার করা হচ্ছে। সিডিউল মেনে কাজ করা হচ্ছে না। রাস্তা নির্মাণে অনিয়মসহ নানা গড়মিল ধরা পড়ে জনসাধারণের নজরে। রাস্তায় নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এত নিম্নমানের কাজ হওয়া সত্ত্বে ও উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

রাস্তার অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয় ভ্যানচালক বাচ্চু মাতুব্বর বলেন, ‘এমন রাস্তা কয়েকদিন পরেই পিচ উঠে যাবে। এ কাজ টেকসই হবে না। আমাদের ভ্যান চালাবার গিয়ে আবারও কয়েকমাস পর সমস্যা হবে।’

অভিযোগ বিষয়ে জানতে গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে রাস্তার অনিয়মনের বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বা দায়িত্ব প্রাপ্ত কোনো ব্যক্তিকে পাওয়া যায়। ফলে তাদের কারো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। ঠিকাদারের নাম ‘মুখস্ত নাই বলে’ জানাই বলেন সালথা উপজেলা প্রকৌশলী আবু জাফর মিয়া। তিনি অনিয়মনের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী জানান, ‘সড়ক নির্মাণে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। সড়ক নির্মাণের কাজ সব ঠিক আছে। ঠিকাদারের নাম মুখস্ত নাই।’

জানতে চাইলে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনিছুর রহমান বালী এ ব্যাপারে জানান, সড়কে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে কি না, সেটা না দেখে বলতে পারবেন না। তবে তিনি প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখবেন বলে জানান তিনি।

ফরিদপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুজ্জামান খান বলেন, ‘এখন তো কোরবানির ঈদের বন্ধ। তাই ওই সড়কের কাজও বন্ধ থাকার কথা।’ তারা ঈদের পরে খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামরুল আহসান তালুকদার এ ব্যাপারে জানান, ‘এ ব্যাপারে দ্রুতই খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। কোনো অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close