দিলরুবা খাতুন, মেহেরপুর

  ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩

ছায়া দেবে না ২৭৮৬ বৃক্ষ

অদূরদর্শীতার কারণে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে ও মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কেদারগঞ্জ-দর্শনা সড়কে কোনো ক্লান্ত পথিককে আর ছায়া দেওয়ার গাছ থাকছে না। সড়ক সংস্কারের প্রয়োজনে ওই দুই সড়কে দুই হাজার ৭৮৬টি গাছে কোদালের কোপ পড়তে শুরু করেছে। এসব গাছ কাটার পর গাছশূন্য সড়কে পরিণত হবে।

এর আগে দফায় দফায় বিভিন্ন সড়কে গাছ কেটে নেওয়ায় সড়ক পথে গাছের সংখ্যা একেবারেই কমে যায়। শুধু সড়ক বিভাগের নয়, বিগত সময়ে জেলা পরিষদের অনেক গাছ কাটা পড়েছে বৈধ ও অবৈধভাবে। কয়েক বছর আগেও সড়কে ব্রিটিশ শাসনামলের বড় বড় মেহগনি, শিশু, কড়াই, রেইনট্রিসহ বিভিন্ন গাছ ছিল, যার একটা অংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তার পাশে খুঁটি পুতে বিদ্যুৎ সরবরাহের খেসারত দিতে হচ্ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে।

বিদ্যুতের সেসব খুঁটি স্থানান্তরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মেহেরপুর ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) মেহেরপুরকে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সড়ক হচ্ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের। সড়কের দুই পাশের গাছের মালিকানা দাবি জেলা পরিষদ ও বন বিভাগের। এ নিয়ে তিন বিভাগের মধ্যে বিরোধও আছে। আছে আদালতে মামলা।

মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে জেলা শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে গোপালপুর পর্যন্ত ৫২টি লটে ৫৪৭টি গাছ ৫৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকায়, গাংনী উপজেলায় বাউট থেকে খলিসাকুন্ডি পর্যন্ত ১১০০ গাছ ২৮ লাখ ১২ হাজার টাকায় দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করেছে বন বিভাগ। ইতোমধ্যে ওইসব গাছে কুড়ালের কোপ পড়তে শুরু করেছে। জেলা পরিষদ মুজিবনগর উপজেলার কেদারগঞ্জ বাজার থেকে দর্শনা সড়কের ১৩৯টি গাছের দরপত্র আহ্বান করেছে।

মেহেরপুর কুস্টিয়া সড়ক সম্প্রসারণের আওতায় আসায় ৬৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক সম্প্রসারণ কাজের জন্য এসব গছ কাটতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে সড়ক সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়েছে।

মেহেরপুর বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসটি হাসিম হায়দার জানান, নগরবিদদের পরামর্শে এসব গাছ লাগানো হলে সড়ক সম্প্রসারণে বাধা হতো না গাছ।

মেহেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় বিদ্যৎ বিভাগ খুঁটি পুঁতে। বন বিভাগ ও জেলা পরিষদ শেষ সীমানাতে গাছ না লাগানোয় এখন সড়ক সম্প্রারণ কাজে বিদ্যুৎ সরবরাহের খুঁটি ও গাছ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ খুঁটি সরিয়ে নিতে ওজোপাডিকে এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। সুদূর প্রসারী পরিকল্পনায় গাছ লাগানো হলে পরিবেশের প্রয়োজনে গাছগুলো কাটতে হতো না।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close