চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

  ২৭ নভেম্বর, ২০২২

ব্রহ্মপুত্রের চরে কাঁশফুলের খড়ে মেটে জ্বালানি চাহিদা

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের বুকে জেগে ওঠা দ্বীপচরগুলোতে কাঁশফুলের খড় কুড়িয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাচ্ছে নদ পাড়ের প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির বাসিন্দারা। এর মধ্যে রয়েছে জেলে গোষ্ঠীর মানুষও। প্রতিদিন ভোরবেলা খেয়ে দুপুরের খাবার ও পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে কোমর সমান পানি ডিঙিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার বালুচরের পথ পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যান তারা। চরাঞ্চলের এমন খড় কুড়িয়ে নদী তীরবর্তী প্রায় শতাধিক মানুষ জ্বালানির চাহিদা পূরণ করছেন। এসব খড়কুট কুড়িয়ে আগামী কয়েক মাস তারা জ্বালানির চাহিদা মেটাবেন।

ব্রহ্মপুত্র পাড়ের জেলে পাড়া গ্রামের নুরভানু বেগম বলেন, ভোরে ভাত খেয়ে সঙ্গে দুপুরের খাবার ও পানির বোতল নিয়ে চরে গিয়ে এসব খড় কুড়িয়ে সামনের কয়েক মাস ব্যবহার করতে পারবো। আমরা সাধারণত দুই-তিন মাস সময় পাই এসব খড় কুড়ানোর। আমরা তো বন্যার সময় জ্বালানির সমস্যায় পড়তে হয়। এখন এসব খড়কুটো কুড়িয়ে রাখলে বন্যাসহ আগামী কয়েক মাস ভালোই চলবে।

ওই এলাকার ফাতেমা বেগম বলেন, আমার স্বামীর তো কাজ কাম নাই। নদীতে তেমন মাছ পাওয়া যায় না। সারা বছর অভাবে মধ্যে যায়। সেজন্য আমরা এই দুই মাস কাশফুলের খড় কুড়োনোর সুযোগ পাই। এরপর কিছু খড়ি বিক্রি করতে পারি। আবার বাকিটা জ্বালানির জন্য রেখে দিতে পারি। খড় বিক্রির টাকা দিয়ে সংসার কোনো রকমে চলে।

জেলেদের প্রধান ভোন্দল দাশ বলেন, আমাদের জেলেপাড়াসহ বেশ কিছু এলাকার মানুষ সকালে গিয়ে সারা দিন এসব খড়কুটো কুড়িয়ে আনে। বিশেষ করে মহিলারা এইকাজ বেশি করে করে। আমরা তো প্রায় সারা দিন নদীতে মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত থাকি। মাঝে মধ্যে সহায়তা পাই আসলে তা দিয়ে তো সারা বছর চলা কষ্টসাধ্য।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান জানান, আমরা এসব নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক বিশেষ করে জেলে পরিবারের মানুষের মাঝে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close