রাকিবুল ইসলাম রাকিব, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)

  ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

৩৪ বছরেও রাস্তা পায়নি ধারাকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শুকনো মৌসুমে কষ্ট না হলেও বর্ষাকালে দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ধারাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যাতায়াতের জন্য নিজস্ব কোন রাস্তা নেই। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে অন্যের বাড়ির পথ ও খেতের আইল দিয়ে চলাচল করতে হয়। এক্ষেত্রে শুকনো মৌসুমে কষ্ট না হলেও বর্ষাকালে দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের। বিদ্যালয়ের রাস্তা নির্মাণের দাবিতে সম্প্রতি বিদ্যালয় মাঠে ‘ধারাকান্দি সচেতন নাগরিক সমাজে’র ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ধারাকান্দি গ্রামে ১৯৮৮ সালে ৩৫ শতক জমিতে ধারাকান্দি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৬০ শিক্ষার্থী ও প্রধান শিক্ষক সহ পাঁচ জন শিক্ষক রয়েছে। বিদ্যালয়ের পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ফসলি জমি। পূর্ব দিকে রয়েছে ব্যাক্তিমালিকানাধীন জমি ও বাড়ি। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আব্দুল হেলিম নামে এক ব্যক্তির জমির রাস্তা ব্যবহার করতো। ২০২০ সালে ওই রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হলে মোফাজ্জল হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাড়ির রাস্তা ও খেতের আইল দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করেন।

বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশ দিয়ে গ্রামের মূল সড়কের দূরত্ব ২৫০ গজ। ২০২০ সালের অক্টোবরে এমপির ছেলে তানজীর আহমেদ রাজীবকে ওই দূরত্বের রাস্তাটুকু করার জন্য অনুরোধ করেন প্রধান শিক্ষক। কয়েক মাস পরে রাজীব মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের জন্য ভেকু মেশিন পাঠান। কিন্তু জমির মালিকরা জমি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় রাস্তা হয়নি।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবির বলেন, রাস্তা না থাকায় খেতের আইলের কাদা-পানি মাড়িয়ে স্কুলে

আসি। অনেক সময় বই খাতা কাদা-পানিতে পড়ে নষ্ট হয়।

এদিকে বিদ্যালয়ের রাস্তা নির্মাণের দাবিতে সম্প্রতি বিদ্যালয় মাঠে মানববন্ধন পালিত হয়। ওই মানববন্ধনে রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও শিক্ষকদের অনিয়মিত যাতায়াত বন্ধের দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিজা শওকত আরা বলেন, জমির মালিকরা জমি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় রাস্তা হচ্ছে না। আমি যোগদানের আগে থেকে এডহক কমিটি কাজ করছে। শিক্ষকদের অনিয়মিত যাতায়াতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

মাওহা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল ফারুক বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব করতে আমি বিদ্যালয়ের রাস্তার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্ত জমির মালিকরা জমি ছাড়তে রাজি হয়নি। মালিকপক্ষ জমি দিলে আমি যেকোন সময় মাটি কেটে রাস্তা করে দেবো।

উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ বলেন, জমির মালিকদের সাথে কথা বলে বিদ্যালয়ের জন্য ৫০০ মিটার রাস্তা নির্মাণের একটা পরিকল্পনা আছে। বিধি অনুযায়ী কিছু কাজ শেষে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হবে। কোন শিক্ষক অনিয়মিত যাতায়াত করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close