জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

  ০৯ আগস্ট, ২০২২

সৈয়দপুর রেলওয়ে

ভুয়া মালিকানা দেখিয়ে ১৭ একর জমি বিক্রি

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ভুল রেকর্ডকে পুঁজি করে রেলওয়ের প্রায় ১৭ একর জমি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে বিপুল পরিমাণ ওই জমির মালিক রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ হলেও ভুয়া মালিক বানিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে প্রকাশ্যে। গত ৩ আগস্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করেছে রেলওয়ে বিভাগ। এতে ভুয়া মালিক সেজে জমি বিক্রির সত্যতা পায় রেল কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগে জানা গেছে, সৈয়দপুরে দেশের সর্ববৃহৎ রেলওয়ে কারখানা। এই কারখানার বাইরে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৮০০ একর জমি। এর মধ্যে শহর এলাকাতেই রয়েছে প্রায় ৩০০ একর। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নজরদারীর অভাবে প্রায় ৯০ শতাংশ জমি চলে গেছে অবৈধ দখলে। এরমধ্যে আলোচিত ১৭ একর জমি। বঙ্গবন্ধু সড়কের নেসকো অফিসের সামনে ওই জমি একাধিক ব্যক্তি ভুয়া মালিকের কাছে জমি ক্রয় করে অবৈধভাবে দখলে নেয়। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন জনের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে। ভুয়া মালিকের কাছে কিনে নেওয়া রেলের জমিতে অনেকে বাড়িঘরও তুলেছেন, আবার অনেকে বহুতল ভবনও নির্মাণ করেছেন দখলিয় ওই জায়গায়।

গত ৩ আগস্ট রেলওয়ে প্রশাসনের প্রায় ৪০ জন সদস্য নিয়ে ওই স্থানে যান পার্বতীপুর রেলওয়ে ভূসম্পদ বিভাগের সরকারি আমিন হিরেন্দ্র নাথ সরকার। তিনি ওই এলাকা ঘুরে অবৈধ দখল ও ভুয়া মালিকানায় জমি বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পান।

এ বিষয়ে পার্বতীপুর রেলওয়ে ভূসম্পদ বিভাগের ফিল্ড কানুনগো মো. জিয়াউল হক জানান এটি হল বাঙ্গালীপুর ও নিয়ামতপুর এলাকা। এখানে রেলওয়ের ১৭ একর জমি রয়েছে। ওই জমির ভুয়া মালিক সেজে কতিপয় ব্যক্তি তা অনেকের কাছে বিক্রী করে গেছেন। ক্রেতারা ওই জমির ওপর কেউ কেউ ঘরবাড়ি নির্মাণ করে আছেন। শেখ সাদ কমপ্লেক্স নামের এক বিশাল স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। আবার কেউ কেউ ক্রয় করে নিজেদের দখলে রেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি জায়গা উদ্ধারে আমরা মাঠে নেমেছি। রেলওয়ের জায়গা মাপযোগ করছি। কারা এ জায়গা বিক্রী করছে আর কারা ক্রয় করছে তাদের তালিকা করছি। সময় হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে শেখ সাদ কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে মামলার রায় রেলওয়ের পক্ষে এসেছে। দ্রুত সময়ে সরকারি জমি উদ্ধারে মাঠে নামা হবে।

তবে ৭ আগষ্ট সকালে জমির দখলে থাকা লোকজন বলছেন, সম্প্রতি শহরের দারুলউলুম মাদ্রাসার পূর্ব পাশে সবুজ সংঘ মাঠ সংলগ্ন রেলওয়ের জমি দখল করে ওয়াদুদ নামের এক রেল কর্মচারী ওই জমি ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। এরআগে রেলওয়ের প্রায় সাড়ে ৪০০ একর জমি দখল বিক্রি হয়, কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা হয়নি। কারন হলো ঘুষ বাণিজ্য। মোটা অংকের ঘুষ দেওয়া হয়নি বলেই তারা মালিকানা সম্পত্তি রেলওয়ের জমি বলে দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে জানান তারা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close