কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

  ১৫ মে, ২০২২

পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে দু’দফায় বৃষ্টির ফলে খেতের পাকা ধানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে চরম হতাশায় পড়েছে কৃষকরা। একদিকে শ্রমিক সঙ্কট, অন্য দিকে বৈরী আবহাওয়া যেন তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খেতে কেটে রাখা ধান ঘর্ণিঝড় অশনি বৃষ্টির পানিতে ভাসছে। ধানের ফলন ও দাম ভালো হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। ধান ঘরে তোলার মুহূর্তে বৈরী আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে চাষিরা পড়েছেন উৎকণ্ঠায়। এ ছাড়া শ্রমিক সঙ্কটে ধান ঘরে তোলা নিয়ে খুব চিন্তায় পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

এ উপজেলায় ঈদের ২-৩ দিন আগে থেকে ধান কাটা শুরু হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া কৃষকদের ভাবিয়ে তুলেছে। বৃষ্টি হওয়ায় অনেক কৃষক তাদের আধা পাকা ধান কেঠে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। এ সময় পুরোদমে ধানকাটার মৌসুম শুরু হলেও এখনও অধিকাংশ কৃষক খেতের ধান ঘরে তুলতে পারেনি। আর ২-১ সপ্তাহের মধ্যে মাঠের পাকা ধানগুলো কেটে ঘরে তুলে নেয়ার অপেক্ষায় ছিল। এদিকে সপ্তাহ পার না হতেই ফের ঘর্ণিঝড় অশনি বৃষ্টি হওয়ায় মাঠের পর মাঠ পাকা ধান মাটিতে নূইয়ে পড়েছে। অনেক জমিতে কেটে রাখা ধান বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, উপজেলায় ধানচাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিলো ১৪ হাজার ৩০ হেক্টর। কিন্তু কার্তিক মাসের কিছু ফসল নষ্ট হওয়ায় কারণে এবার চাষ হয়েছে ১৬ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ৫০০ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৩০-৪০ ভাগ ধান কেটে বাড়িতে এনে পালা দিয়ে রেখেছেন আর গুলো খেতেই পড়ে বৃষ্টির পানিতে ভিজছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় মাঠের পর মাঠ পাকা ধান মাটিতে নূইয়ে পড়েছে। অনেক জমিতে জমে থাকা পানি কেটে রাখা ধানের ওপড়ে উঠে গেছে।

উল্ল্যা গ্রামের তৈয়েবুর রহমান জানান, এ বছর আড়ায় বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছিলাম। কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তোলার আগেই বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে পাকা ধান।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিকদার মো. মোহায়মেন আক্তার জানান, উপজেলায় এ বছর বোরো ধানের আবাদ লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে। ঘর্ণিঝড় অশনি ও বৃষ্টির কারণে যে সমস্ত বোরো খেত তলিয়ে গেছে সেগুলোর আইল কেটে দ্রুত পানি বের করে দিতে হবে। তা ছাড়া যেসব খেতে ধান নুয়ে পড়েছে সেইগুলোর ধান দ্রুত কাটার জন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। মাঠে গিয়ে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন হস্তান্তর করছি। যাতে কৃষকদের কষ্টে অর্জিত ফসল ভালভাবেই সংগ্রহ হয়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close