প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ০৮ ডিসেম্বর, ২০২১

জাওয়াদের প্রভাবে আমনসহ সবজির ব্যাপক ক্ষতি

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে গত দুদিনের টানা বৃষ্টিতে চলতি মৌসুমি ফসলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে আমন ধান, মুড়িকাটা পেঁয়াজ, দানা পেঁয়াজের খেত, হালি পেঁয়াজের বীজতলা, আলু, সরিষা খেতসহ রবি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় ফসলের খেত পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন চাষি। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

ফরিদপুর : জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, প্রাথমিকভাবে চলতি মৌসুমের ২০ হাজার ১০১ হেক্টর ফসলের জমি বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। কালো সোনাখ্যাত পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনকারী (কৃষি পদকপ্রাপ্ত) চাষি শাহীদা বেগম জানান, প্রতি বছরের মতো এ বছরও ব্যাপকভাবে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের জন্য পেঁয়াজের ভাল্ব (পেঁয়াজ) জমিতে রোপণ করা হয়েছে। অনেক জমির পেঁয়াজ গজিয়ে সবুজ আকার ধারণ করেছে, অনেক জমির পেঁয়াজ গজিয়ে উঠতে শুরু করেছে। আবার অনেক জমিতে সবেমাত্র রোপণ করা হয়েছে। হঠাৎ করে বৃষ্টিতে এসব জমিতে পানি জমে গেছে। দ্রুত পানি সরে না গেলে আমার ৩৫ বিঘা জমিতে রোপণ করা পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাবে। আমি কয়েক কয়েক লাখ টাকার ক্ষতির মধ্যে পড়ে গেছি। আর বৃষ্টি না হলে এবং দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমে আসবে। শুধু মুড়িকাটা পেঁয়াজ নয় রসুন, আলু ও সরিষার খেত তলিয়েছে। আকর্ষিক বৃষ্টিতে সরিষার ফুল ঝরে গেছে। আলুখেতের ডুবে যাওয়ায় গাছে পচন শুরু হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. হযরত আলী জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার ফলে বৃষ্টিতে জেলার ২০ হাজার ১০১ হেক্টর জমিতে নিমজ্জিত হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব কৃষকদের এই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া জন্য অন্য ফসলের প্রণোদনা দিতে।

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) : মির্জাগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে আমন ধান, বিভিন্ন সবজি ও খেসারি ডালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে মাঠে যেন সোনালি ধানের সমারোহ ছিল। ধানের ফলন দেখে কৃষকের মুখে ছিল রঙিন হাসি। এ এলাকায় আর ১৫ থেকে ২০ দিন পরেই ধান কাটা শুরু হতো। ঘূর্ণিঝড় জাওয়ায়েদ কারনে আমন ধানের গাছগুলো বৃষ্টির পানিতে মিশে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবার ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে এবারে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কৃষকরা জানান, অতি বৃষ্টি ও বাতাসের ফলে ধান গাছ মাটিতে হেলে পড়েছে। একটানা বৃষ্টিতে সবজির ক্ষতি হয়েছে। তবে দুই-তিন দিনের মধ্যে আমন ধানখেতের পানি শুকিয়ে গেলে ক্ষতির পরিমাম কিছুটা কম হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আরাফাত হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ এর প্রভাবে ৫-৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ধরণের ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে বলে কৃষকদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়। পরিপক্ব সবজি ও ৮০ শতাংশ পরিপক্ব আমন ধান সংগ্রহ, বোরো ধানের বীজতলা ও আমন ধানের জমির নিষ্কাশন নালা পরিষ্কার রাখা, সবজি বপন, চারা রোপণ, সেচ, সার ও বালাইনাশক প্রদান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। এ ছাড়া গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির থাকার জায়গা পরিষ্কার ও শুকনো রাখার কথা কৃষি বিভাগ থেকে বলা হয় কৃষকদের। ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। তবে দুই দিনের মধ্যে আমন ধানখেতের পানি শুকিয়ে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কম হবে।

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের শৈলকুপায় গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে খেতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ফলে মাঠে থাকা পাকা আমন ধানের জমি প্রায় ডুবু ডুবু অবস্থা। খেতে কেটে রাখা ধান তলিয়ে গেছে। ফলে এই ধান ঝরে চারা গজিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি এভাবে কয়েক দিন থাকলে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা কৃষকদের। অন্যদিকে সরিষা, পেঁয়াজ ও গমের খেতেও পানি জমে গেছে। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার কয়েক হাজার চাষি।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর এক বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করতে সবমিলিয়ে খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। বর্তমানে শ্রমিক খরচ আরো প্রায় তিন হাজার টাকা বেড়ে ১৫ হাজারে ঠেকছে। গোখাদ্য বা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার্য বিচালি বা খড় পচে যাওয়ায় ক্ষতি আরো বেড়েছে। কৃত্তিনগর গ্রামের কৃষক মতলেব মল্লিক বলেন, সাধারণত এক বিঘা জমিতে ১৮ মণ হারে ফলন হয়। সেখানে বৃষ্টির কারণে পানিতে ডুবে যাওয়ায় ৮ থেকে ১০ মণের মতো ধান ঝরে যাবে। বিচালিও পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক আজগর আলী জানান, ধান, গম, পেয়াজ, সরিষা খেতে পানি জমে আছে। তবে এই পানি যদি চার থেকে পাঁচ দিন থাকে তবে লোকসানের পরিমাণটা অনেক বেশি হবে। আমরা চেষ্টা করছি কী পরিমাণ জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নিরুপণ করার। ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ শেষে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে অধিদপ্তরকে জানানো হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close