সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি

  ০৫ ডিসেম্বর, ২০২১

ঘরে অক্সিজেন জোগাবে দৃষ্টিনন্দন ‘লাকি ব্যাম্বু’

চোখ ফেরাতেই দৃষ্টি পড়ে বোতলের মাঝে রোপণ করা সারি সারি সবুজের দৃষ্টিনন্দন কিছু গাছ। আকারে ছোট হলেও যেন দৃষ্টি কাড়ার মতোই। টিনের চালার সঙ্গে বোতল ঝুলিয়ে তাতে রোপণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ‘লাকি ব্যাম্বু’। এমন দৃশ্য চোখে পড়ে নওগাঁর সীমান্তবর্তী উপজেলা সাপাহারে অবস্থিত বরেন্দ্র এগ্রো পার্কে। নানারকম দেশি-বিদেশি গাছের সমারোহে ভরপুর এই বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য এই লাকি ব্যাম্বু।

লাকি ব্যাম্বু মূলত দেখতে অনেকটা বাঁশের মতো। তবে এটি এমন একটা গাছ যার জন্য খুব বেশি আলো-বাতাসের প্রয়োজন নেই। যে কারো হুট করে চোখে পড়লে বাঁশের চারা বলে মনে হয়। এর কাণ্ড, পাতা ও আকৃতি দেখতে অনেকটা বাঁশের মতোই। তবে লাকি ব্যাম্বু বাঁশের মতো ঝাড় না পাকিয়ে একইভাবে বাড়তে থাকে। এ জাতীয় গাছগুলো বেশিরভাগ দেখা যায় সৌখিন লোকজন ও বৃক্ষপ্রেমীদের অন্দরমহল, বাড়ির আঙ্গিনা, ব্যালকনি, বেডরুমসহ বাড়ির বিভিন্ন জায়গায়। লাকি ব্যাম্বু বাড়িতে রাখলে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ হয় বলে জানা গেছে। আর স্বল্প আলোতে এটির উৎপাদন হওয়ার ফলে বাসার যেকোনো স্থানে গাছটি রাখা সম্ভব। অনেকে এই লাকি ব্যাম্বুকে ড্রেসেনা নামে চেনে। বেশিরভাগ লোকজন ধারণা করেন লাকি ব্যাম্বু বাড়িতে রাখা অনেকটাই শুভ লক্ষ্মণ বহন করে।

লাকি ব্যাম্বুর পরিচর্যার বিষয়ে বরেন্দ্র এগ্রো পার্কের প্রতিষ্ঠাতা ও তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা বলেন, সাধারণত টবে পানি ঢেলে তাতে লাকি ব্যাম্বু রাখা হয়। গাছটি অনেকটা মানিপ্ল্যান্টের মতো। টবে থাকা পানি যদি কালচে হয়ে যায় কিংবা এতে ভাসমান ময়লা দেখা যায় তবে পানি বদলে ফেলতে হবে। অনেক সময় এই পানিতে শ্যাওলা জন্মায়। সবসময় টব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর পানি বদলানো ও টব পরিষ্কারের কাজ করতে হবে। পাতা হলদে হয়ে গেলে সেই অংশ ছেঁটে ফেলে দিতে হবে। অন্যথায় পুরো গাছ হলদে হয়ে ফিকে রং ধারণ করে।

সচেতনরা বলছেন, বিভিন্নভাবে পরিবেশের অবক্ষয় হওয়ার ফলে অক্সিজেনের মাত্রা কমছে। লাকি ব্যাম্বু যেহেতু স্বল্প আলোতেই রোপণ করা যায় সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের পাশাপাশি বসতবাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close