ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

  ০৪ ডিসেম্বর, ২০২১

পিঠা বেচে সংসার চলে রেনুর

সন্ধ্যা নামলেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় গ্রামাঞ্চলের মেঠোপথ। হালকা শীত এসে শরীরে শিহরণ তোলে। আর এই শীতের সন্ধ্যায় উষ্ণতা নিয়ে হাজির হয় ভাঁপা, চিতই, পুলি, চাঁদপুলি, পাক্কন, পাটিসাপটা পিঠাসহ বাহারি সব স্বাদের পিঠা। সঙ্গে মরিচ, ধনিয়া পাতা, শুঁটকি আর সরিষা ভর্তা। বিভিন্ন ধরনের ভর্তা দিয়ে স্বাদের চিতই পিঠা খেতে মানুষ লাইন ধরে রেনু বেগমের দোকানে। আর এই পিঠাপুলি বিক্রি করেই চলে রেনু বেগমের সংসার।

সন্ধ্যা নামার ঘণ্টাখানেক আগে শুরু হয় রেনু বেগমের পিঠার দোকান। সঙ্গে থাকেন তার প্রতিবন্ধী স্বামী। তিনি বসে চুলার মধ্যে জাল ও পিঠা তৈরির কাজে সহায়তা করেন স্ত্রীকে। তাদের রয়েছে এক মেয়ে সন্তান। মেয়েকে তাদের বাসার কাছে একটি মাদরাসায় ভর্তি করেছেন। তাদের আশা মেয়েটিকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করে তোলা।

সংসারের অভাবের কারণে স্বামী-সন্তান নিয়ে পাড়ি জমান ঢাকায়। উদ্দেশ্য ছিল কোনো একটি জায়গায় ছোটোখাটো চাকরি করে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে সুখের ঠিকানা খোঁজার। গত কয়েক বছর আগে ঢাকায় চলে আসেন কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থানার চন্দনিয়া গ্রাম থেকে।

রেনু বেগম বলেন, ‘৫০০ টাকা দিয়ে কিছু চাল কিনে কালামপুর বাজারে সন্ধ্যায় একটি মাটির চুলা নিয়ে বসে গেলাম পিঠা বিক্রি করতে। দেখলাম পিঠা বেশ বিক্রি হয়েছে আর ভালো টাকাও লাভ হয়েছে। এরপর থেকে শুরু হয় আমার পিঠা বিক্রি। পিঠা বিক্রির সঙ্গে আমার স্বামীও আমাকে সহযোগিতা করেন। আমরা দুজনই বিকালে পিঠা বিক্রি করি। অপরদিকে আমার মেয়েকে কালামপুর একটি মাদরাসায় লেখাপড়ার জন্য ভর্তি করে দিয়েছি।’

রেনু বেগম আরো বলেন, ‘আমি দোকান থেকে চাল কিনে সেটা মেশিনে গুঁড়া করি। এছাড়া পিঠা ভাজতে যে লাকড়ি লাগে সেগুলো দিনে জোগাড় করি। বিভিন্ন প্রকার ভর্তা তৈরি করে বিকালে কালামপুর বাজারের একটি অস্থায়ী জায়গায় বসে এসব পিঠা বিক্রি করি।’ নির্দিষ্ট জায়গায় স্থায়ীভাবে বসতে পারেন না বলে তিন-চার পদের বেশি পিঠা বানানো সম্ভব হয় না। তবে ভর্তা করেন পাঁচ পদের। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তার ক্রেতা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close