প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২৮ নভেম্বর, ২০২১

তদবির ছাড়াই পুলিশে চাকরি

হবিগঞ্জে ৪৪, জামালপুরে ৪৮ জন ও টাঙ্গাইলে ৭৫ জনের স্বপ্ন পূরণ

চাকরি পেতে তদবির, টাকা, মামা, চাচা এসব প্রচলিত কথা থাকলেও বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল পদে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। মাত্র ১৩০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন তরুণ-তরুণীরা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জে মাত্র ১৩০ টাকা খরচ করে বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছে ৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৭ ও নারী রয়েছে ৭ জন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে ভাইভা শেষে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী। এর আগে ভাইভা পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত হয় ১০৭ চাকরি প্রত্যাশী প্রার্থী। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর মাত্র ১৩০ টাকা খরচ করে পুলিশের চাকরি পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে এতিম, চা-শ্রমিক ও দিন মজুরের সন্তানেরা।

অনামিকা মুন্ডা। চুনারুঘাট উপজেলার আমু চা-বাগানের শ্রমিক দূর্গেশ মুন্ডার কন্যা। দূর্গেশ মুন্ডা দিনরাত ব্যস্ত থাকেন চা-বাগানের ভেতর কৃষি কাজে। আর তার স্ত্রী কাজ করেন চা-শ্রমিক হিসেবে। আর্থিক অভাব অনটনের সংসারে তাদের ঘরে রয়েছে তিন কন্যা সন্তান। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হল অনামিকা। পড়ালেখা চালাতে আর্থিক সংকটও কোন বাধা হতে পারেনি অনামিকার। সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে স্বপ্নের শিখরে সে। শুক্রবার রাতের সেই ফলই ভাগ্য গড়ে দিয়েছে তার। পেয়েছেন পুলিশের চাকরি। সবকিছু টিক থাকলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করেই যোগ দেবেন ট্রেনিংয়ে।

পুলিশ লাইন্সে ভাইভা শেষে ফলাফল ঘোষণা কালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ও সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজাল, মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) এ,বি,এম, মোজাহিদুল ইসলাম পিপিএম, হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চকমা প্রমুখ।

জামালপুর : জামালপুরে পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন ৪৮ জন। তাদের মধ্যে ৪১ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী। এছাড়া ১৫ জনকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে। শুক্রবার রাতে জেলা পুলিশ লাইন্স বেলটিয়া মাঠে চূড়ান্ত নিয়োগ প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ। পরে নিয়োগপ্রাপ্তদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা এবং নিয়োগ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আইজিপির নির্দেশে শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। শারীরিক সক্ষমতা ও মেধার ভিত্তিতে অধিকতর যোগ্য প্রার্থীরা নিয়োগ পেয়েছেন।

এ সময় নিয়োগ বোর্ডের বাকি দুই সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) শেখ মোস্তাফিজুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল, নেত্রকোনা) মোরশেদা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল পুলিশের চাকরি পেলো ৭৫ জন। এর মধ্যে ছেলে ৬৪ জন ও মেয়ে ১১ জন। জেলায় পুলিশের ট্রেনিং রিক্রুট কনস্টেবল পদে আবেদন করেছিলো ৩ হাজার জন। ঘুষ-তদবির ছাড়াই বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৭৫ জনের ১৩০ টাকার বিনিময়ে চাকরি হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে সকল পরীক্ষা শেষে উত্তীর্ণদের তালিকা প্রকাশের পর জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে আবেগ ঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

পুলিশের চাকরি পাওয়া গোপালপুর উপজেলার নান্দুটিয়ান গ্রামের কৃষক শফি ইসলামের মেয়ে তানিয়া ইসলাম বলেন, ১৩০ টাকায় চাকরি পাব কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। আমি চাকরি পেয়ে আমার পরিবারের জন্য অনেক উপকার হয়েছে। এখন আমি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারবো, বাবাকে আর কষ্ট করতে হবে না।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, কনস্টেবল নিয়োগ পক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে সব প্রস্তুতি ছিল এবং সততার সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেছি। পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে আইজিপির উদ্যোগে সম্পূর্ণ নতুন নিয়মে কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পরীক্ষার টাঙ্গাইল জেলায় প্রাথমিকভাবে যারা নির্বাচিত হয়েছে তারা সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নির্বাচিত হয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close