পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি

  ২৭ নভেম্বর, ২০২১

পত্নীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

অযত্নে বঙ্গবন্ধু কর্নার

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অযত্ন-অবহেলা আর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে শেখ মুজিবুর রহমানের দুর্লভ ছবি-সংবলিত বঙ্গবন্ধু কর্নার পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চর্চা অব্যাহত রাখতে বর্তমান সরকার সারা দেশে প্রতিটি হাসপাতালে বঙ্গবন্ধু কর্নার করার উদ্যোগ নেয়।

উদাসীনতা, খামখেয়ালীপনা আর নিজ নিয়মেই চলছে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ বরেন্দ্র অঞ্চলে মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন, রোগীর ন্যূনতম চিকিৎসা না দিয়েই রাজশাহী রেফার করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেখিয়ে দিল তাদের উদাসীনতার আরেকটি নজির।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, দন্ত বহিঃবিভাগের সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুর্লভ ছবি সংবলিত বঙ্গবন্ধু কর্নারের সামনে মোটরসাইকেল পার্কিং ও হাসপাতালে বিভিন্ন আসবাবপত্র রেখে পুরো জায়গাটির প্রদর্শনী পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। অনেকেই বলছেন, একটি জাতির কর্ণধারের ছবির সামনে মোটরসাইকেল গ্যারেজ ও ময়লা আসবাবপত্র রাখার কাজটি ঠিক হয়নি। কর্তৃপক্ষ চাইলে পরিষ্কার ও সুন্দরভাবে রাখতে পারতেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত এ নেতার ছবি এভাবে রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর প্রতি অবমাননা করেছেন।

এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাশেম বলেন, বর্তমান প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো বঙ্গবন্ধু কর্নারের সামনে মোটরসাইকেল পার্কিং ও হাসপাতালের বিভিন্ন আসবাবপত্র রেখে পুরো জায়গাটির প্রদর্শনী পরিবেশ নষ্ট করেছে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে এর প্রতিকার ও বঙ্গবন্ধু অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. খালিদ সাইফুল্লাহ মুঠোফোনে বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু কর্নার এখনও উদ্বোধন করিনি। এটা বড় আকারে করব এজন্য একটু দেরি হচ্ছে। প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মুজিববর্ষ উপলক্ষে যে বঙ্গবন্ধু কর্নার ও হেল্প ডেস্ক উদ্বোধন হয়েছিল সেটি কোথায় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ফোনটা আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ রায়কে দিয়ে দেন।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ রায় বলেন, বঙ্গবন্ধু কর্নার ও হেল্প ডেস্ক ছিল প্যাথলজির সামনে একটি ঘরে। সেখানে আমরা মুজিব কর্নার হিসেবে বিভিন্ন বই রেখে ছিলাম। তারপর আমরা বড় পরিসরে করছি, এটির কাজ চলমান। এখনো কাজ শেষ হয়নি বলে জানান তিনি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close