চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

  ২৬ নভেম্বর, ২০২১

চকরিয়ার খুঁটাখালী বনবিট

বনের মাটি কেটে রাস্তা পাচার হচ্ছে গাছ-বালু

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের অধীন খুঁটাখালী বনবিটের উঁচু-নিচু পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করেছে বনদস্যুরা। বনের ওই রাস্তা দিয়ে হরহামেশাই পাচার হচ্ছে ছোট-বড় গর্জনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। এ ছাড়া বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া হরিন্নাঝিরি থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট বনবিভাগের লোকজন এসব দেখেও নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীদের অভিযোগ, খুঁটাখালী বনবিটের নিয়ন্ত্রণাধীন বনবিভাগের ১০ হেক্টর বাগানের উঁচু-নিচু পাহাড়ের মাটি কেটে রাস্তা তৈরি করেছে স্থানীয় ওবাইদুল্লাহ গ্যাংয়ের লোকজন। খুঁটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরেস্ট অফিসপাড়ার মোকতার আহমদের ছেলে ওবাইদুল্লাহর নেতৃত্বে লোকজন বনবিভাগের জায়গায় নানা সন্ত্রাসী কর্মকা- ও পাহাড় নিধনের মহাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।

বনের জমি দিয়ে রাস্তা তৈরি করে ওই পথ ধরে বনের ভেতরে হরিন্নাঝিরি থেকে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ২০১৯ সালের বাগানের জায়গায় গড়ে তুলেছে বালুর স্তূপ। ওবাইদুলের ভাই আমির সোলতান পুলিশের কথিত সোর্স পরিচয় দিয়ে এলাকার নিরীহ মানুষকে প্রতিনিয়ত হয়রানি করে আসছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

সোলতানের ছত্রছায়ায় এলাকার চিহ্নিত ডাকাত, অস্ত্রধারী, চোর, মাদক কারবারি, সাজাপ্রাপ্ত ও পালাতক আসামিরা থানা পুলিশের কাছে অধরা রয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা। পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ভয় দেখিয়ে বাগানিয়াপাড়ার মুখে খুঁটাখালীছড়াসংলগ্ন প্রায় তিন একর ধানি জমি থেকে ওপরে মাটি সরিয়ে দিব্যি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং বনের সংরক্ষিত গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, খুঁটাখালী বনবিটের হরিন্নাঝিরি ও বাগানিয়াপাড়ায় বনবিটের এক থেকে দুজন বনকর্মী এবং মুন্সীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা- করে যাচ্ছেন ওবায়দুল্লাহ। এলাকার সাধারণ মানুষ তার বাহিনীর ভয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় কেউ অভিযোগ করলে তাকে ওই এলাকা থেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্রে চলে যেতে হয়, না হয় তাদের নির্যাতনে বসবাস করাও দায় হয়ে পড়ে। বনকর্মীরাও তার বাহিনীর ভয়ে উৎকোচ নিয়ে নীরবতা পালন করে যাচ্ছে।

জানা গেছে, ওবায়দুল্লাহর বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে ডাকাতি, অপহরণ, চুরি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, বন মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও তার ভাই হামিদ উল্লাহ (হামিদ) বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অপরাধের একাধিক মামলা। বর্তমানে সেও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

ওবায়দুল্লাহ বাহিনীর লিডার রেজাউল সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অপরাধী কর্মকা-ে রয়েছে ডজনাধিক মামলা। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বনের ভেতর ওবাইদুল্লাহ তার ভাইসহ ১০ থেকে ১২ চিহ্নিত আসামি অবৈধ কর্মকা- চালিয়ে জীবনযাপন ও আয় রোজগার করছেন। তাই বনের ক্ষতি করে নিজেদের জীবিকায়নসহ বনাঞ্চল ধ্বংসের বড় শত্রুতে পরিণত হয়েছে। বনবিভাগ ও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইন প্রয়োগ করলে অনেকটা অপরাধ প্রবণতা রোধ করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খুঁটাখালী বনবিট কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল প্রতিনিদিনের সংবাদকে বলেন, বনের জায়গায় যে রাস্তাটা করেছিল তা জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছি। এ ছাড়াও কোনো ধরনের যানবাহন যেন বনে ঢুকতে না পারে সে জন্য বড় বড় গর্ত করে দেওয়া হয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close