অলিউজ্জামান রুবেল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

  ১৫ অক্টোবর, ২০২১

পাট পণ্যের ব্যবহার কার্যকর হয়নি এক দশকেও

পাটের বস্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নিয়ম থাকলেও তা মানছে না চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেশির ভাগ পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। আগের মতো প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। জেলার চাল বিক্রয় কেন্দ্র, চালকল, অটো রাইস মিল, চালের আড়তসহ সর্বত্র ব্যবহার করা হচ্ছে প্লাস্টিকের বস্তা। দোকানিরা তাদের বিভিন্ন খাদ্যশস্য সাজিয়ে রাখতেও এসব বস্তা ব্যবহার করছেন।

জানা গেছে, জেল ও জরিমানার বিধান রেখে খাদ্যশস্য ধান, চাল, গম, ভুট্টা, চিনি ও সার মোড়কের ক্ষেত্রে প্লাস্টিক বস্তা নিষিদ্ধ করে পাট বা পাটজাত পণ্য ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে আইন পাস করে সরকার। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত সরবরাহ, স্বল্পমূল্য এবং ব্যবহারে সুবিধা, এমন কারণ দেখিয়ে অবাধে ব্যবহার করে যাচ্ছেন প্লাস্টিক বস্তা। জেলার বাজারগুলোয় অবাধে প্লাস্টিক বস্তা ব্যবহার করা হয়ে থাকলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়েছে চাল ও বিভিন্ন খাদ্যশস্য। চিনির ক্ষেত্রেও পাটের বস্তা দেখা যায়নি। এসব ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, মিল মালিকরা যেভাবে সরবরাহ করছেন, বাজারে সেভাবেই বিক্রি হচ্ছে। অন্য দিকে মিল মালিকরা বলছেন, ধানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলেও চালের ক্ষেত্রে দাম বেশি পড়ছে ও চাহিদা অনুযায়ী পাটের বস্তা মিলছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ, দামে সস্তা, সহজে বহনযোগ্যতার কারণে প্লাস্টিক বস্তা ব্যবহার করে থাকেন মিল মালিকরা। একটি পাটের বস্তার সরকারি দাম ৭০ টাকা। কিন্তু একটি প্লাস্টিক বস্তা খুচরা পর্যায়ে পাওয়া যায় ১৩-১৪ টাকায়। তারপর পাটের বস্তা কুয়াশা কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। পাটের বস্তায় রাখা চাল দীর্ঘ মেয়াদে রাখলে খাদ্য শস্যে পোঁকা লাগে। এ ছাড়াও পাটের বস্তায় পণ্যের লোগো ব্যবহারের অসুবিধাকে নিয়ম না মানার কারণ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন এবং পাটের বস্তা সরবরাহে অপ্রতুলতার কথাও বলছেন তারা।

সদর উপজেলার ইসলামপুরের কৃষক সাইদুর রহমান জানান, পাটের ব্যবহার বাড়লে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি তারা পাটের ন্যায্যমূল্য পাবেন। ফলে পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়বে। একই সঙ্গে পাট তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, সরকার পাটের ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে সোনালি আঁশখ্যাত পাটশিল্পকে রক্ষায় এ উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি উদ্যোগের কারণে খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাটের উৎপাদন বেড়েছে। আইন মেনে জেলায় উৎপাদিত খাদ্যশস্য সংরক্ষণে প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাটের বস্তা ব্যবহার করা যেতে পারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা (অ.দা.) কৃষিবিদ অজিত কুমার রায় বলেন, পাটের বস্তা ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০-এর আওতায় নির্ধারিত পণ্যে পাটের বস্তা বা মোড়কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে প্রশাসনের সহযোগিতায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান জানান, গত এক সপ্তাহ আগে এক সভায় পণ্যে পাটজাত মোড়ক নিশ্চিত করতে মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা বাস্তায়নে তারা এক মাস সময় নিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে পণ্যে পাটের বস্তা বা মোড়ক নিশ্চিত না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close