বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি

  ১১ অক্টোবর, ২০২১

হস্তশিল্পে সফল নারী উদ্যোক্তা ননী বাড়ৈ

ননী বাড়ৈ হস্তশিল্পে একজন সফল উদ্যোক্তা। বরিশালের বাবুগঞ্জের মাধবপাশা বাজার তিনমঠ এলাকার মৃত বিজয় বাড়ৈয়ের স্ত্রী। এই নারী এখন এলাকার অসহায় নারীদের মডেল। নানামুখী হস্তশিল্পে নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং অনুপ্রেরণা দিয়েছেন সমাজের অনেক নারীদের। প্রায় ৩০০ নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন ৫৭ বছর বয়সি ননী বাড়ৈ।

জানা গেছে, বিয়ের পর স্বামীর সংসারের ভালোই দিন কাটছিল তার। হঠাৎ স্বামী অসুস্থ হয়ে পঙ্গু হয়ে যায়। পঙ্গু স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ চারজনের সংসারে নেমে আসে অভাব-অনটন। তার কাঁধে পড়ে পুরো সংসারের দায়িত্ব। ১৪ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলেমেয়ের মানুষ করতে নিজ ঘরেই কাঁথা সেলাই ও গ্রামবাসীর জামা-কাপড় তৈরির কাজ শুরু করেন। ২২ রকমের হাতের কাজ জানা ননী বাড়ৈ ২০০৭ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে বাহারি রঙের পুঁতি দিয়ে তৈরি শুরু করেন আকর্ষণীয় পণ্য। সেই থেকে আর পিছু তাকাতে হয়নি তাকে। পুঁতির ব্যাগ, মেয়েদের মাথার ব্যান্ড, চুরি ও বিভিন্ন প্রজাতির ফলসদৃশ্য পণ্য। এ ছাড়া পাশাপাশি পাটের সুতা দিয়ে তৈরি করেন পাপোশ, ওয়ালমেট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় রুচিসম্মত পণ্য। এনজিও কর্মীদের মাধ্যমে বিভিন্ন মেলায় তার হাতের তৈরি পণ্য প্রদর্শন করে প্রশংসিত হয়েছেন বহুবার। এগুলো তৈরির কাঁচামাল ঢাকা থেকে সংগ্রহ করতে হয় তাকে। তিনি নিজ উদ্যোগে সমাজের অবহেলিত প্রায় ৩০০ নারীকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। করোনার কারণে প্রদর্শনী মেলা বন্ধ থাকায় পুঁতি ও পাটের তৈরি পন্যের বাজারে ধস নামায় চিন্তিত হয়ে পরেন তিনি। আয়ের উৎস্য কমে যায় তার। চাহিদা অনুযায়ী বাজার বহনের জন্য প্লাস্টিক ব্যাগ ও কাগজের মিষ্টির ঠোঙা তৈরি শুরু করেন। বর্তমানে তার অধীনে ১০ নারী প্লাস্টিক ব্যাগ ও মিষ্টির ঠোঙা তৈরির কাজ করছেন। প্লাস্টিকের ব্যাগ তৈরি করতে প্রথমে তিনি ব্যবহৃত সিমেন্টের খালি বস্তা সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো ধুয়ে পরিষ্কার করে শুকিয়ে সেলাই মেশিনের মাধ্যমে বিভিন্ন আকারের ব্যাগ তৈরি করেন এবং বাজারজাত করেন। পাশাপাশি সেলাই মেশিনে জামা-কাপড় তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

নারী উদ্যোক্তা নণী বাড়ৈ বলেন, বর্তমানে তার মাসে ১২-১৫ হাজার টাকা আয় হয়। পুঁতির কাজ শুরু করতে পারলে আয় ২০ হাজার টাকায় দাঁড়াবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে তিনি ১৫ সদস্যের নারী উদ্যোক্তা সংগঠন দাঁড় করাতে কাজ করছেন।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন এনজিও থেকে লোক এসে নানা রকম পরামর্শ দিয়ে যায়। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন প্রোগ্রামে আমাকে নিয়ে নারীদের উদ্বুদ্ধ করতে কথা বলায়। উপজেলা মহিলা অধিদপ্তরে কয়েকবার আমার হস্তশিল্পের প্রসার ঘটাতে সহযোগিতা কামনা করেছি। কিন্তু কেউ কোনো সহযোগিতা করেনি। সরকারের সহযোগিতা পেলে সমাজের অবহেলিত নারীদের নিয়ে একটা প্ল্যাটফরম তৈরি করে কাজ করতে পারব বলে জানান তিনি।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close