সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

  ১০ অক্টোবর, ২০২১

মজুরি-বৈষম্যের শিকার নারীশ্রমিকরা

নারী ও পুরুষের সমান অধিকার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রায়ই সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় নীলফামারীর সৈয়দপুরে। অফিস আদালত বা নির্বাচনে নারী-পুরুষের অধিকার সমান হলেও শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য কমেনি। পুরুষ শ্রমিকের সমান কাজ করেও নারীদের মিলছে তিন ভাগের এক ভাগ মজুরি। এ নিয়ে নারী শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলেও আজও ইতিবাচক ফল পাননি তারা।

পাবনা থেকে সৈয়দপুর জিআরপি হোটেলে কাজ করেন জুয়েল নামের এক যুবক। প্রায় তিন থেকে চার বছর ওই হোটেলে কাজ করছেন তিনি। বিনিময়ে পাচ্ছেন প্রতিদিন তিন বেলা খাওয়াসহ ৭০০ টাকা। অপর দিকে একই হোটেলে কাজ করেন আঞ্জু আরা বেগম। তিনি প্রতিদিন পান দুই বেলা খাওয়াসহ ২৫০ টাকা। মাসে ৭ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে সংসারের খরচ চালাতেই শেষ। ফুটা হওয়া টিন পরিবর্তন করার উপায় নেই তার। বাচ্চাদের মাছ-মাংস বা ফল খাওয়াটা যেন স্বপ্নের মতো। হোটেল শ্রমিক জুয়েল ও আঞ্জু আরার কাজ প্রায় সমান। অথচ পারিবারিক সচ্ছলতার পার্থক্য অনেক।

আঞ্জু আরা বেগম জানান, পুরুষের সমান কাজ নারীরা করলেও সমান মজুরি বা সমান ও সুযোগ সুবিধা পায় না নারীরা। শুধু হোটেল-রেস্তোরাঁতেই নয় পুরুষদের সঙ্গে নারীরা ঘরবাড়ি বা বহুতল ভবন নির্মাণে সমান কাজ করলেও মজুরির বেলায় অর্ধেক।

বহুতল ভবনে নির্মাণকাজ করা একাধিক নারী শ্রমিক জানান, বাসা-বাড়ি, হোটেল রেস্তোঁরা, ইট ভাটা ও মাঠে ঘাটে নারীরা মজুরি বৈষম্যের শিকারা হন। তারা আরা বলেন, শুধু সরকারই পারেন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের মজুরি ও অধিকার নিয়ে আইন করে সমাধান করতে।

নারী শ্রমিকরা বলেন, ইট-ভাটা, ভবন ও বহুতল ভবন নির্মাণসহ মাঠে কাজ করতে গেলে মজুরি কমের পাশাপাশি প্রস্রাব-পায়খানা করার জায়গা পাওয়া যায় না। এ বিষয়টি অপ্রাতিষ্ঠানিক মালিকরাও ভেবে দেখেন না।

পৌর মেয়র রাফিকা আক্তার জাহান বেবি জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নারী ও পুরুষ শ্রমিকের মধ্যে কোনো বৈষম্য নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী-পুরুষের সমান অধিকার বাস্তবায়ন করেছেন। কিন্তু অপ্রাতিষ্ঠানিক নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্যের শিকার হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। পুরুষের পাশাপশি নারীরা সমান কাজ করলে তাদেরও সমান মজুরি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close