ঘাটাইল ও মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

  ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মির্জাপুরের দুই কলেজ বন্ধ

বন্যার পানি থামাতে পারেনি তাদের

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার নারাংগাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির সুমাইয়া ও তার সহপাঠীরা বলছিল, ওদের স্কুলে যাওয়ার পথটা মসৃণ নয়। দুটি সড়কই তলিয়ে গেছে বন্যায়। কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমর পানি। ভেজা কাপড় নিয়েই ওরা হাজির। ওরা দেরি করে স্কুলে আসে না, শিক্ষার্থীরা আসে স্যারেরা আসার আগেই। বন্যার পানিও ওদের দমাতে পারেনি। ওরা বিদ্যালয়ে যেতে শুরু করছে ৫৪৪ দিনের নীরবতা ভাঙতে, মেতেছিল আনন্দে। কখন যে স্কুলে আসার পথে ভেজা কাপড় শুকিয়ে গেছে ওরা টেরই পায়নি।

২০২১ ও ২০২২ সালের এসএসসি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে পিইসি পরীক্ষার্থীর প্রতিদিন এবং অন্যান্য শ্রেণির ক্লাস সপ্তাহে পর্যায়ক্রমে নেওয়ার সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। কিন্তু খোলার দিন সব শ্রেণির ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিল। স্বাস্থ্য সচেতনতায় প্রতিটি স্কুল গেটে শিক্ষকসহ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দেখা গেছে তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে। মাস্ক নিশ্চিত করে প্রবেশ করানো হয় ক্লাসে। হাত ধোঁয়ার জন্য প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের সামনে রাখা হয়েছে সাবান, বালতি ভর্তি পানি। অনেকের পরনে ছিল না স্কুলড্রেস।

উপজেলার ঝুনকাইল আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র শরীফ হোসেন জানায়, স্কুলড্রেস ছোট হয়ে গেছে। নতুন করে বানানোর সামর্থ্য নেই। এমন আরো শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনাকালে অভিভাবকদের আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালাতেই নাকি বেগ পেতে হচ্ছে। নারাংগাইল উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খালিদ হাসান খোকন বলেন, স্কুল খোলায় শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বসিত। উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। রাস্তা পানির নিচে থাকায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম। স্কুলে যাওয়া আসার পথটি সহজ করার দাবি এলাকাবাসী, শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীদের।

মমরেজ গলগন্ডা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ বলেন, সরকারি সব নির্দেশনা মেনেই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মানা ও পাঠদান হচ্ছে কিনা সে লক্ষ্য নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, প্রাথমিকের চারটি বিদ্যালয় মাঠে বন্যার পানি উঠেছে কিন্তু পাঠদান বন্ধ রাখা হয়নি। মাধ্যমিকের পাঁচটি স্কুল, ছয়টি মাদরাসা ও একটি কলেজ মাঠে বন্যার পানি প্রবেশ করেলেও পাঠদান চলমান রয়েছে।

এদিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর প্রতিনিধি জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুল-কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার তাপমাত্রা মেপে স্কুল-কলেজে প্রবেশ, সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া, মাস্ক পরা নিশ্চিত করা হলেও স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা কোনোভাবেই মানা হচ্ছে না। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার পৌর সদরের মির্জাপুর সরকারি কলেজ, মির্জাপুর সরকারি এস কে পাইলট উচ্চবিদ্যালয়, মির্জাপুর আফাজ উদ্দিন দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা পরিদর্শন করে এসব চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে সারা উপজেলায় বন্যাকবলিত আছে ৮৬টি প্রাথমিক ও ১৫টি মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে মির্জাপুর মহিলা কলেজ ও আলহাজ শফি উদ্দিন মিঞা ও একাব্বর হোসেন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের অংশে পানি থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো কোনোভাবেই চালু করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ।

এছাড়া উপজেলার অন্যান্য ১৪টি মাদরাসা, সাতটি কলেজ, ৫৪টি উচ্চবিদ্যালয় এবং ১৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চালু হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পানি থাকলেও বিকল্প পদ্ধতিতে পাঠদান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close