খুলনা ব্যুরো

  ১৮ জুন, ২০২১

কয়রায় ‘যশের’ প্রভাব

জনগণের অর্থায়নে নির্মাণ হচ্ছে ৫ কিমি বাঁধ

খুলনার কয়রায় ঘূর্ণিঝড় ‘যশের’ আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণ করছে স্থানীয় জনগণ। উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ী গ্রামের মানুষ চাঁদা তুলে বেড়িবাঁধের ওপর মাটি চাপান দিচ্ছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে এ কাজ চলছে। মঠবাড়ী গ্রামের সুবোলের মোড় থেকে মঠবাড়ী পুলিশ ক্যাম্প পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি তুলে নির্মাণকাজ চলছে।

এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যমতে, দুর্বল

------
বেড়িবাঁধগুলো টেকসইভাবে নির্মাণ না হওয়ায় প্রতি বছর বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধ ভেঙে লোকালয় তলিয়ে যায়। এতে প্রতি বছরই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। তাই এলাকাবাসীর অর্থায়নে শুরু হয়েছে বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজ।

মঠবাড়ী গ্রামের আবু সাইদ বলেন, প্রতি বছর কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় আমাদের ঘরবাড়িসহ আমাদের আয়ের প্রধান উৎস্য মাছের ঘের। তাই আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে নিজেরা ঘের মালিকদের কাছ থেকে টাকা তুলে বাঁধের ওপর মাটি দিয়ে বাঁধ মজবুত করার চেষ্টা করছি।

সাবেক ইউপি সদস্য নূরুল ইসলাম খোকা বলেন, ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর থেকে এখন পর্যন্ত কয়রা নদীর পাউবোর বাঁধের ওপর পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ সংরক্ষণে সেভাবে কাজ করেনি। এবারে যশের বাঁধ উপচে ও ভেঙে মঠবাড়ী গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী মহারাজপুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে ঘেরের মাছ ও ফসল। প্রতি বছর কোনো না কোনো দুর্যোগে প্লাবিত হয় আর এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সেই বাঁধ নির্মাণ করে। এজন্য এবার লোকজন নিজেদের জমির মাথায় পাউবোর বেড়িবাঁধের ওপর মাটি চাপান দিয়ে বাঁধ মজবুত করছে। এ কাজের অর্থায়ন করছে জনগণ নিজেরাই।

মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন বাঁধ নির্মাণে কাজ করছে। এটি পাউবোর সংস্কার ও নির্মাণ কাজের প্রস্তাবিত তালিকায় ছিল। তবে যশের আঘাতে তা আবারও ভেঙে যায়। যেহেতু এলাকাবাসী এটি নির্মাণ করছে সেহেতু এটি একটি প্রকল্প ধরে কীভাবে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া যায় সে চেষ্টা আমি করব।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩/১৪-১ নম্বর পোল্ডারের দায়িত্ব প্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে কাজ করছে জানতে পেরে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। ওখানকার কাজের প্রস্তাবনা দেওয়া আছে। যেহেতু এলাকাবাসী কাজ করছে, এজন্য উপজেলা প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর একটি আবেদন করার জন্য তাদের বলা হয়েছে। আমাদের অফিসের নিয়মানুযায়ী সেখানে একটা প্রকল্প দিয়ে এলাকাবাসীর টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close