নওগাঁ প্রতিনিধি

  ০২ ডিসেম্বর, ২০২০

মান্দায় শিক্ষককে বিবস্ত্র করে নির্যাতন

প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

নওগাঁর মান্দা উপজেলার পাঁজরভাঙা গ্রামে নাসিম উদ্দিন (৫৫) নামের এক প্রবীণ শিক্ষককে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় এরশাদ আলী (৩৬) নামের এক স-মিল মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নির্যাতিত শিক্ষক নাসিম উদ্দিন সোমবার রাতে বাদী হয়ে এ মামলা করেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে অভিযুক্ত এরশাদ আলীকে উপজেলার পাঁজরভাঙা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তিনি ওই গ্রামের দিলশাদ আলীর ছেলে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক নাসিম উদ্দিনের অভিযোগ, রাজশাহীর বাগমারা সদরের নিজ বাড়ি থেকে সম্প্রতি নওগাঁর মান্দা উপজেলার পাঁজরভাঙ্গা গ্রামে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন তিনি। এলাকায় অবৈধ স’মিলের শব্দদূষণ, কাঠের গুঁড়া ও ধুলাবালিতে মানুষের ভোগান্তি দেখে গত বুধবার বিকালে প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা ও নির্যাতন চালায় করাতকলের মালিক দেলশাদ আলী মন্ডলের দুই ছেলে এরশাদ আলী মন্ডল, আবদুর রাজ্জাকসহ তাদের সহযোগীরা। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাকে মেরে বিবস্ত্র করে ফেলা হয়। পরে গ্রামবাসী আত্মীয়-স্বজনরা অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে।

------
স’মিল মালিক দেলশাদ হোসেন ম-লের দাবি, আইন মেনেই চলে তার করাত কল করা হয়েছে। প্রায় ৩৫ বছর ধরে পাজারভাঙ্গায় স’মিলটি চালিয়ে আসছেন তারা। কোনো দিনই কারো সমস্যা হয়নি। মূলত নাসির উদ্দিনের জামাতা রেজাউল ইসলামের কাছে পাওনা রড সিমেন্টের চার লাখ ৫৬ হাজার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এই উদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে হাতাহাতি হলেও শিক্ষক নাসির উদ্দিনকে বিবস্ত্র করার অভিযোগ অস্বীকার করেন স’মিল মালিক দিলশাদ আলী।

মান্দা থানার ওসি শাহীনুর রহমান বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনায় প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে ওই শিক্ষক বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ আরো কয়েকজনকে আসামি করে সোমবার রাতে থানায় মামলা করেন। মামলার অন্যতম আসামি এরশাদ আলীকে মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়