সাহারুল হক সাচ্চু, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)

  ৩০ নভেম্বর, ২০২০

বাড়ছে সুগন্ধি ধানের আবাদ

উল্লাপাড়ার নাগরৌহায় মাঠে সুগন্ধি ধান আবাদ বাড়ছে। দেশীয় ব্রিধান-৩৪ ও ব্রিধান-৩৮ জাতের এ ধান স্থানীয়ভাবে পোলাও ধান নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্রায় দুই যুগ আগেই এর উদ্ভাবন হয়। এবারের মৌসুমে নাগরৌহা এলাকার মাঠে প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে এ ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষক আবদুল করিম একাই ১৬ বিঘা জমিতে এ ধানের আবাদ করেছেন। এছাড়া উপজেলার আরো কয়েকটি মাঠে দুই-চার বিঘা করে এ ধানের আবাদ করা হয়েছে।

সরেজমিন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় সব জমিতেই পাকা ধান শোভা পাচ্ছে। আর সপ্তাহ দেড়েক পরই এ ধান কাটা যাবে। নাগরৌহা মাঠে এবার সুগন্ধি পোলাও ধান আবাদকারী কৃষকের সংখ্যা ৯ জন বলে জানা যায়। গত বছর কৃষকের সংখ্যা কম ছিল। কৃষক আবদুল করিম জানান, বছর পাঁচেক আগ থেকে তিনি এর আবাদ শুরু করেন। প্রতি বছরই এ ধানের আবাদি জমির পরিমাণ বাড়িয়েছেন। এবারে প্রায় ১৬ বিঘা জমিতে এ ধানের আবাদ করেছেন। তার সংগ্রহে রাখা ধান থেকেই বীজতলা তৈরি ও চারা জমিতে লাগিয়েছেন। নাগরৌহা গ্রামের অন্য কৃষকরাও নিজেদের সংগ্রহের বীজেই এ ধানের আবাদ করেছেন। কৃষক আবদুল করিম আরো জানান, জমিতে চারা লাগানোর দিন থেকে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে এ ধান ঘরে তোলা যায়। ফলনের হার বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ মণ। অন্য ধানের তুলনায় এর দাম বেশি। এ ধান কম সময়ে ঘরে তোলা যায় আর দাম বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। নাগরৌহার পোলাও ধান আবাদকারী কৃষকরা এবারেও সব জমি থেকেই ভালো হারে ফলনের আশা করছেন।

------
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ব্রিধান-৩৪ ও ব্রিধান-৩৮ জাতের পোলও ধান মূলত রোপা আমন মৌসুমে আর ইরি-রোবো মৌসুমে ব্রিধান-৫০ সুগন্ধি বাংলামতি ধান আবাদ করা হয়েছে। উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আজমল হক বলেন, প্রায় ১০ বছর হলো বাংলামতি ধান কৃষক আবাদ করছে। এ ধানের ফলনের হারও বেশি। বিঘাপ্রতি এ ধান ১৬ থেকে ১৮ মণ হারে ফলন মেলে।

উপজেলা কৃষি অফিসার সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন, উফশী ব্রিধান-৩৪, ব্রিধান-৩৮ ও ব্রিধান-৫০ জাতের ধান উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক অনেকটা শখেই আবাদ করে থাকেন। এ ধানের আবাদে তার বিভাগ থেকে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়