হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

  ২৫ নভেম্বর, ২০২০

‘ধর্ষণের পর হত্যা’ প্রবাসীর স্ত্রীকে

দেবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ

হবিগঞ্জের বাহুবলে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী তানিয়া আক্তারকে (২২) ধর্ষণের পর বিষপান করিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দেবরসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। তবে বিষপানে আত্মহত্যার দাবি প্রতিপক্ষের। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা বলছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তাই এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

নিহত তানিয়া আক্তার উপজেলার মির্জাটুলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী নুরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে একই উপজেলার ফদ্রখলা গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে সৌদি প্রবাসী শাহ আলমের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। তাদের সংসারে একটি ছেলে আছে। এরই মধ্যে ওই গৃহবধূর লাশের ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

------
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে সম্প্রতি তানিয়ার ওপর দৃষ্টি পড়ে সৌদি প্রবাসী দেবর জানে আলমের। করোনার আগে দেশে আসলে তিনি আর ফেরত যেতে পারেননি। প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করতেন জানে আলম। তানিয়া বিষয়টি শ্বশুর-শাশুড়িকে জানালেও তারা কর্ণপাত করেননি। এ নিয়ে জানে আলমের স্ত্রীর সঙ্গে তানিয়ার কয়েকবার ঝগড়াও হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন জানে।

গত রোববার রাতে ঘরের তালা ভেঙে তানিয়ার রুমে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন জানে আলম। এক পর্যায়ে তানিয়ার মুখে বিষ ঢেলে দেন তিনি। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হবিগঞ্জ হাসপাতালে নিলে সোমবার সকালে তানিয়াকে সিলেটে প্রেরণ করা হলেই মারা যান তানিয়া। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এই অভিযোগ করেন নিহতের পরিবার।

নিহতের মামা আবদুর রহিমের দাবি, তানিয়াকে ধর্ষণের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করে জানে আলম। সঙ্গে জড়িত তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনও। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন লিয়াকত জানান, বিষয়টি শোনার পর স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করি। শুনেছি ওই গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। তবে এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। আশা করি, তদন্তে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম আলম চৌধুরী বলেন, ‘প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যা মর্মে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে তন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়