ঝালকাঠি সরকারি কলেজ

ভবনে না থেকেও ভাড়া গুনছেন অধ্যক্ষ

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে ঝালকাঠি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবন। এদিকে ভবনে বসবাস না করেও প্রতি মাসে বাসা ভাড়া বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হচ্ছে অধ্যক্ষকে। প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে তার বেতন থেকে। এ নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে বারবার চিঠি দিলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তারা।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে ঝালকাঠি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের জন্য ডরমিটরি ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ভবনের কক্ষগুলো অত্যন্ত সরু এবং পাশের চলাচলের রাস্তার চেয়ে নিচু হওয়ায় শুরু থেকেই তা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এক অধ্যক্ষ (প্রফেসর রুস্তম আলী) এ ভবনটিতে দুই বছর ছিলেন। তবে সংস্কার করা না হলে বাড়িভাড়া কাটতে পারবে না বলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে তিনি চিঠি দিয়েছিলেন। এ কারণে ওই অধ্যক্ষের কাছ থেকে ডরমিটরিতে বসবাসের জন্য বাড়ি ভাড়া কর্তন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া প্রত্যেক অধ্যক্ষের বেতন থেকে ডরমিটরি ভাড়া বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হয়। কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আনছার উদ্দিনের মাসিক বেতন থেকে প্রায় ২৫ হাজার টাকা ডরমিটরি ভাড়া বাবদ কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে একাধিক চিঠি দেওয়া হলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না অধিদপ্তর।

সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির সম্পাদক আ. ছালাম (সহযোগী অধ্যাপক), যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান রুবেল (সহকারী অধ্যাপক) জানান, পুরাতন ভবনটি ব্যবহারে অত্যন্ত অনুপযোগী হওয়ায় এখানে কেউই বসবাস করছে না। অধ্যক্ষের বেতন থেকে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে অপরদিকে তিনি বাইরে বাসাভাড়া করে থাকায় উভয় দিকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আনছার উদ্দিন জানান, বাসের অনুপযোগী হওয়ায় অধ্যক্ষের বাসভবনে আমি থাকছি না। তবুও আমার বেতন থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে ৭ লাখ টাকা বাড়িভাড়া বাবদ কেটে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে ডরমিটরি ভবন সম্পর্কে অবহিত করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

 

"