দেয়ানগঞ্জে ফুটওভার ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কাঠারবিল-সানন্দবাড়ী সড়কের গয়ারডোবা ফুটওভার ব্রিজটি দীর্ঘদিন থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও পথচারীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

জামালপুর এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের অর্থায়নে ২০০৬ সালে কাঠারবিল-সানন্দবাড়ী সড়কের গয়ারডোবা খালের ওপর ১৪৪ মিটার ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৩৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৯৭ টাকা। ব্রিজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল মেসার্স কাদের এন্টারপ্রাইজ। নির্মাণের সময় ব্রিজের দুই পাশে সরু কাঁচা সড়ক ছিল। সে কারণে যানবাহন চলাচলের বিষয়টি বিবেচনা না করেই স্থানীয় পথচারীদের চলাচলের জন্যে ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালে কাঠারবিল থেকে ওই ব্রিজ হয়ে সানন্দবাড়ী পর্যন্ত পাকা সড়ক হওয়ায় ফুটওভার ব্রিজটির ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু করে। ফুটওভার ব্রিজটির প্রশস্ততা এতোই কম যে, মুখোমুখি দুটি অটোরিকশা ক্রসিং করতে পারে না। বিগত ৮ বছর পূর্ব থেকে এ ব্রিজের রেলিং ভাঙতে শুরু করেছে। ভাঙন শুরু হয়েছে ব্রিজের পাটাতনেও। ব্রিজের দুই পাশে পাকা সড়ক হওয়ার পর থেকে ব্রিজটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন পথচারী ছাড়াও শত শত যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে। এতে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

চরআমখাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান আকন্দ জানান, নির্মাণের সময় দুই পাশে প্রশস্ত পাকা সড়ক ছিল না। খালের পশ্চিম ও পূর্বপাড়ের মধ্যে পথচারী চলাচলের জন্যে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পাকা সড়ক হওয়ায় এখন পথচারী ছাড়াও প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করছে ব্রিজটির ওপর দিয়ে। ব্রিজটির রেলিংসহ বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন ও পথচারী চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। চরআমখাওয়া ইউপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামছুল আলম জানান, ফুটওভার ব্রিজটির নির্মাণকাজে ত্রুটি ছিল। নিম্নমানের ইট, খোয়া, বালি, সিমেন্ট ও রড ব্যবহার করার কারণে নির্মাণের ছয় বছর পর অর্থাৎ ২০১৩ সাল থেকে ব্রিজটির রেলিংসহ অন্যান্য স্থান ভাঙতে শুরু করে। ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

জামালপুর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ওই ব্রিজটির সম্পর্কে আমি অবহিত ছিলাম না। তবে সরেজমিন খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

 

 

"