তিস্তায় ভাঙনের মুখে স্কুল

অনিশ্চয়তায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে রাজারহাটে তিস্তা নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে দেড় শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর তৈয়বখাঁ গ্রামের তিস্তা নদীর পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়টি।

গত শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রায় অধিকাংশই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। চর তৈয়বখাঁ গ্রামের আবদুর রাজ্জাক, ইউনুস আলী, জয়নাল আবেদীন ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনন্ত রায় সরকার জানান, চারজন শিক্ষক ও দেড় শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী নিয়ে এ স্কুলে পাঠদান কার্যক্রম চলে আসছিল। বিদ্যালয়টি তিস্তা নদীর পাশে অবস্থিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকির মধ্যে ছিল। চলতি বছরের দীর্ঘস্থায়ী বন্যার পানির প্রবল স্রোতে গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের একটি টয়লেট, একটি রুম তিস্তা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এখন শিক্ষক ও শিশু শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

নদীভাঙনের কবলে পড়া পূর্ব চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মহাম্মদ আলি বলেন, ‘হ্যামার ছাওয়া পোয়ারা কেমন করি লেখাপড়া শিখবে, গ্রাম শুদ্ধায় একনা স্কুল তাও তো নদীত যাবার নাগছে। দেখতে দেখতে স্কুলের জায়গা-জমি দালান ঘরের অর্ধেক চলি গেল আটক করা গেল না।’

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সোলেমন মিয়া বলেন, ইউএনও নুরে তাসনিম স্যারসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিদ্যালয়টি নিলামের ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু নিলামে বিদ্যালয়টি ক্রয় করার মতো কোনো ব্যক্তি না পাওয়ায় তা নিলামে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ভবনের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ার কারণে নিলামে ভবনটি ক্রয়ে আগ্রহী কাউকে পাওয়া যায়নি। ইউএনও নুরে তাসনিম বলেন, বিদ্যালয়টি নিলামে বিক্রির চেষ্টা করা হলেও আগ্রহী ক্রেতা না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া নিজস্ব উদ্যোগে ভবনের সরঞ্জামাদি সংরক্ষণ করার মতো বরাদ্দ উপজেলা পরিষদে নেই। বর্ষা মৌসুম শেষে বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম চালানোর বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

 

"