বুড়িচংয়ে হুমকিতে গোমতী বাঁধ ভাঙন রোধে তড়িঘড়ি প্রস্তুতি

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

মারুফ আহমেদ, কুমিল্লা

কুমিল্লার প্রধান নদী গোমতীর বুড়িচং উপজেলার কংশনগর এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধের দক্ষিণ অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে শঙ্কায় রয়েছে নদী তীরের বাসিন্দারা। তীর ভাঙনের পাশাপাশি নিকট দূরত্বে থাকা কংশনগর ব্রিজটিও রয়েছে হুমকিতে। এদিকে জিও ব্যাগভর্তি বালু দিয়ে বাঁধ মেরামতে তোড়জোড় শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সরেজমিন ঘুরে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা উত্তর ইউনিয়নের কংশনগর হয়ে পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণপাড়ার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম কংশনগর গোমতী সেতু। এই ব্রিজের পূর্বপাশের প্রতিরক্ষা বাঁধের দক্ষিণ অংশের নদী তীর রক্ষায় বিগত সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে হাজার হাজার সিমেন্টের তৈরি ব্লক বসানো হয়েছিল। সম্প্রতি নদীর এই অংশে ভাঙন শুরু হলে অনেক ব্লক নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। এ অবস্থায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের পাশাপাশি নিকট দূরত্বে থাকা কংশনগর গোমতী ব্রিজটিও হুমকির মুখে পড়ে। এরপরই বাঁধটি মেরামতে কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভাঙন কবলিত এলাকায় বালু এনে জিও ব্যাগ ভর্তি করা শুরু হয়। গত তিন থেকে চার দিনের অতি বৃষ্টিতে ভাঙন আরো ব্যাপক আকার ধারণ করে। নদী তীরবর্তী মনোহরপুরের বাসিন্দা সালাম, জয়নাল, হাসনাবাদ গ্রামের খালেক, সামাদসহ একাধিক লোক জানান, কংশনগর ব্রিজের পূর্বপাশে নদীর দুই তীরই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড উভয় অংশে সিমেন্টের তৈরি ব্লক বসিয়ে বিগত সময়ে নদী তীর রক্ষার চেষ্টা করেছিল। তবে ২০১৮ সালে ব্রিজের পূর্ব পাশে একটি প্রভাবশালী চক্র নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে।

স্থানীয়রা আরো জানান, ড্রেজার বসানোর পর গ্রামবাসী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাবর বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ড্রেজারে বালু উত্তোলনের কারণে বাঁধের তলদেশের মাটি সরে গিয়ে প্রথমে ব্লকগুলো নদীতে তলিয়ে গিয়ে পরবর্তী সময়ে চলতি মাসের মাঝামাঝি নদী তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয় মনোহরপুর গ্রামের ৭০ বছরের বৃদ্ধ সামসুল হক বলেন, নদীর দুই তীরে হাজার হাজার ব্লক ছিল। সময়মতো ড্রেজার বন্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা গ্রহণ করলে নদী তীরে ভাঙন হতো না, পানিতে তলিয়ে যেত না হাজার হাজার ব্লক।

স্থানীয়রা জানান, ভাঙনের কারণে বর্তমানে কংশনগর ব্রিজটিও রয়েছে হুমকির মুখে। একদিকে নদী তীর অন্য দিকে ব্রিজ ভাঙনের মুখে চরম আতঙ্কিত এই এলাকার মানুষ। এদিকে প্রতিরক্ষা বাঁধটিতে ভাঙন শুরু হলে নড়েচড়ে উঠে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গত প্রায় ছয় থেকে সাত দিন ধরে ভাঙন কবলিত এলাকায় বালু এনে বস্তা ভর্তি শুরু করে।

বিষয়টি জানতে চাইলে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল লতিফ জানান, কংশনগর এলাকায় ভাঙন কবলিত স্থানে আগেই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। সেখানে ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এক মিটার প্রতিরক্ষাবাঁধ মেরামত করা হবে। এরই মধ্যে বালু এনে বস্তাভর্তি করা হয়েছে। সেলাই শেষে ইউএনও, এমপির প্রতিনিধি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের উপস্থিতিতে বাকি কাজ শেষে বালু ফেলা হবে। তিনি আরো বলেন, নদী আমার না এটা ডিসির ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত। আমরাও করি তারাও করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে অনেকেই নদী রক্ষায় কাজ করেন। গোমতীতে পানি নেই, তাই ভাঙনের সম্ভাবনাও নেই। ব্রিজ হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের না। যাদের ব্রিজ তাদের জিজ্ঞাসা করেন।

 

 

"