কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

১৯ লাখ টাকার সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বছর না যেতেই ভঙ্গুর

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

কুবি প্রতিনিধি

চলতি বছরের শুরুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যবর্ধনে আলোকসজ্জার জন্য সাড়ে ১৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও তা নিয়মিত তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলীন হতে চলেছে। ক্যাম্পাসজুড়ে প্রায় ২০০টি গার্ডেন লাইট লাগানো হলেও তার বেশির ভাগ বাল্বই চুরি হয়ে গেছে। এরই মধ্যে ভেঙে গেছে বেশকিছু লাইটের শেড। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রকল্পটির শুরুতেই পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল। পরবর্তী সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেটি এখন অনেকটাই বিলীন হতে চলছে।

সরেজমিন ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সমাবর্তন উপলক্ষে ক্যাম্পাসের মূল গেট থেকে প্রশাসনিক ভবন হয়ে বিভিন্ন অনুষদের রাস্তা এবং গোল চত্বর থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত পুরো রাস্তায় প্রায় ২০০ এর বেশি গার্ডেন লাইট লাগানো হয়। ভেতরে দেওয়া হয়েছে সাদা বাল্ব। মুক্তমঞ্চ থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত প্রায় সবক’টি লাইট চুরি হয়ে গেছে। আর লাইটের কিছু শেড ভেঙে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকৌশল দফতর এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাড়ে ১৯ লাখ টাকার প্রকল্পটির অধীনে উপাচার্যের বাসভবন ও ক্যাম্পাসে প্রায় ৩০০টি গার্ডেন লাইট লাগানো হয়েছে। যার খরচ পড়েছে প্রায় সাত লাখ টাকা।

আর বৈদ্যুতিক খুঁটি লাগানো হয়েছে ছয়টি। এছাড়া শহীদ মিনার ও নির্মাণাধীন ডর্মেটরির দিকে নতুনভাবে বৈদ্যুতিক লাইন টানা হয়। প্রথমে প্রকল্পটি বাগানের আলোকসজ্জার জন্য বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে সমাবর্তন উপলক্ষে রাস্তাগুলোর আলোকসজ্জার জন্য পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়। এদিকে এক বছরের মধ্যেই লাইটের শেডগুলো ভেঙে যাওয়ায় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতর থেকে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ৭ তারিখ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুরাইয়া এন্টারপ্রাইজকে সংস্কারের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।

আলোকসজ্জার বিষয়ে অভিযোগ করে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম্স বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ইমরান মাহমুদ জীবন বলেন, এ প্রকল্পটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য করেছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট যারা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন প্রথম থেকেই তাদের কাজের চরম অবহেলা আর উদাসীনতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্থানে পার্কের মতো এমন লাইটিং হতে পারে এটা খুবই দৃষ্টিকটু।’

এ বিষয়ে প্রকৌশল দফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জাকির হোসেন বলেন, ‘সাড়ে ১৯ লাখ টাকার প্রকল্পে যে শুধু গার্ডেন লাইট ছিল বিষয়টি এমন নয়। এখানে লাইটের শেড, বৈদ্যুতিক খুটি, আগের পোল পরিবর্তন এবং নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়াসহ নানা ধরনের কাজ ছিল। কাজ বাস্তবায়নের পর করোনার সময়ে লাইট চুরি হয়ে গেছে। শেড কয়েকটা ভেঙে গেছে। তার জন্যেও আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছি।’

অপরিকল্পিত প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের সহকারী পরিচালক ড. মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, প্রত্যেক প্রকল্পের জন্য ডিজাইন কনসালট্যান্ট রয়েছে। তাদের থেকে কোথায় কি হবে তা ইঞ্জিনিয়ারিং দফতর ঠিক করে। আমরা শুধু প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়টি দেখেছি।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের পরিকল্পনায় ত্রুটি ছিল স্বীকার করে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় আমাদের পরিকল্পনার কিছু ত্রুটি ছিল। আর লাইট চুরির বিষয়টা হতে পারে ভেতরে কিংবা বাহিরের কেউ করছে। রক্ষণাবেক্ষণের যে বিষয়টি তা করোনার কারণে সম্ভব হয়নি। তারপরও যেহেতু শেড ভেঙে গেছে আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সেগুলো সংস্কার করে দিতে বলব।

 

 

"