ভাঙ্গুড়ায় গো-খাদ্যের দাম চড়া

বিকল্প ভরসা কচুরিপানা বেশি খাওয়ালেও বিপদ!

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

সিরাজুল ইসলাম আপন, ভাঙ্গুড়া (পাবনা)

ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ভাঙ্গুড়ার গোচারণ ভূমি পানিতে তলিয়ে আছে। খড়ের দামও চড়া। এই অবস্থায় গোখাদ্য নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। তবে তাদের ভরসা জাগাচ্ছে কচুরিপানা। জানা গেছে, বাণিজ্যিক ও পরিবারিকভাবে এখানে শত শত গবাদিপশু পালন করেন কৃষকরা। বিশেষ করে এ অঞ্চলের গোচারণ ভূমি ও গোখাদ্যের সহজলভ্যতার কারণে গরু, মহিষ ও ছাগল পালন করে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

কিন্তু এবারের বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ঘাসের জমি। ফলে গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে আগাম বন্যা ও অতি বৃষ্টির কারণে তারা শুধু ধান সংগ্রহেই মনোযোগ দিতে বাধ্য হতে হয়েছিলেন। সে কারণে গোখাদ্য হিসেবে পরিচিত খড়েরও অভাব দেখা দেয়। তাই রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, দিনাজপুর এলাকা থেকে খড় কিনে নৌকা ও ট্রাক বোঝাই করে এনে বিক্রি করছেন খড় ব্যবসায়ীরা। উপজেলার হাজী জামাল উদ্দীন কলেজ গেট সংলগ্ন বড়াল নদীতে একাধিক খড় বোঝাই নৌকা ও সেই নৌকা থেকে খড় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

সেখানে প্রতি মণ খড় বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। আবার ১০ আটি খড় বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। অপরদিকে খৈল প্রতি কেজি ৪০ টাকা, গমের ভুসি ৩০ টাকা করে কেনাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ফলে তারা খড়ের পাশাপাশি কচুরিপানা ও কলাগাছ খাইয়ে কোনো রকমে পশুকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে চলেছেন।

গত সপ্তাহে পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পারভাঙ্গুড়া, টলটলিয়াপাড়া, ভেড়ামাড়া, পাটুলিপাড়া, ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ঝিকলকতি, নৌবাড়িয়া, চরভাঙ্গুড়া, দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান, পাটুল, অষ্টমনিষা ইউনিয়নের বিশাকোল, ঝবঝবিয়া গ্রাম ঘুরে খামারি ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। উপজেলা পারভাঙ্গুড়া গ্রামের কৃষক আবদুল ওয়াহেদ বলেন, খড়ের দাম বেশি হওয়ার গরুর বিকল্প খাবার হিসেবে কচুরিপানা কেটে নিয়ে খাওয়াচ্ছি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি সার্জন ডা. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, শুকনা খড়ের সঙ্গে অল্প পরিমাণ কচুরিপানা মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। কিন্তু বেশি পরিমাণ কচুরিপানা খাওয়ালে গবাদিপশুর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

 

"