৮০ বছরেও মেলেনি বয়স্কভাতা ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

নাম আইজন বেওয়া। বয়স প্রায় ৮০ বছর। স্বামী মারা গেছেন অনেক আগে। নেই কোনো সন্তান, বাড়ি বা জমি। এক মুঠো ভাতের আশায় তাই ভিক্ষা করেই বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে তার জীবন। লালমনিরহাট জেলা শহরের ব্যস্ততম এলাকা মিশনমোড়ের একটি হোটেলের সামনে এ প্রতিনিধি যেতেই হাত পেতে আইজন বেওয়া বলে বাবা মোক (আমাকে) দুইটা টাকা দিমেন. আইজ (আজ) সকাল থাকি (থেকে) মুই (আমি) কিছুই খাং (খাই) নাই।

পকেট থেকে একটি দশ টাকার নোট বের করে দিয়ে বললেন সরকার থেকে আপনাকে কিছু দেওয়া হয় নাই বা আপনি সরকার থেকে কিছু পাননি. এ কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে সে বলে উঠলো বাবা মিথ্যা কথা কবাং নং (বলবো না) একবার খালি মেলেটারী (আর্মি) আসি (এসে) একনা (একটু) চাইল, ডাইল দিয়া গেছলো, ওইটাই শ্যাষ (ওটাই শেষ)। এভাবেই কান্না জড়িত কন্ঠে কথা গুলো বলছিলেন আইজন বেওয়া।

প্রতিদিন সকাল হলেই দরজার কড়া নেরে ভিক্ষুকরা বলে বাবা/মা ভিক্ষা দেবেন. অথচ লালমনিরহাটকে ভিক্ষুক মুক্ত করার লক্ষে জেলা প্রশাসন ভিক্ষুকদের নামের তালিকা তৈরী করে তাদের জিবিকা নির্বাহের জন্য সরকারী ভাবে বন্দোবস্ত করা হলেও আইজন বেওয়ার মতো শত শত মানুষকে বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষা করতে দেখা যায়। যদিও লালমনিরহাট জেলার মাত্র কয়েকটি ইউনিয়নকে ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা গেছে, লালমনিরহাট জেলা শহরের বালাটারী (বিএনপি কলোনী) রেলওয়ের একটি পরিত্যাক্ত কোয়াটারে তার বসবাস। শরীরে যখন শক্তি ছিল তখন আইজন বেওয়া জেলা শহরের বিভিন্ন বাসা বাড়িতে কাজ করে অতিকষ্টে জীবন-যাপন করছেন। বর্তমানে তিনি লালমনিরহাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের জেলা শহরের বালাটারী (বিএনপি কলোনী) রেলওয়ের একটি পরিত্যাক্ত কোয়াটারে অতিকষ্টে বসবাস করছেন।

বয়সের ভারে ঠিকভাবে কথা বলতে না পারা আইজন বেওয়া জানান, তার স্বামী, সন্তান, বাড়িঘর কিছু নাই। তার বাবার বাড়ি সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নে। টাকা-পয়সার অভাবে খেতে পরতে পারি না। অসুখে ওষুধ কিনে খেতে পারি না, প্রায় দিন তাকে উপোষ থাকতে হয়।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সুশিল সমাজের ব্যক্তিরা বলেন, ভিক্ষকদের পুনর্বাসনের জন্য ভিক্ষুক মুক্ত বাংলাদেশ গড়া একটি যুগোপযোগি কর্মসূচি। যদিও এই কর্মসুচি বা উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন ব্যাপার। তারপরেও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই আমরা। যার অংশ হিসেবে লালমনিরহাটে ভিক্ষুকদের নামের তালিকা তৈরী করা হয়। কার্যক্রম শুরু হয়েছিল কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে সে উদ্যোগে ভাটা পড়ে।

ইতিমধ্যে হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না, কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ও সদর উপজেলার মোগালহাট ইউনিয়নকে ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষণা করা হয়। পুনর্বাসনের জন্য প্রতিটি ভিক্ষুককে হাঁস, মুরগী, ছাগল, গরু ও টাকা দিয়ে স্বাবলম্বি হওয়ার জন্য কার্যক্রম শুরু করা হলেও মরনঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে কাজ কর্ম না থাকায় সেই সব ভিক্ষুকদের আবারও ভিক্ষা করতে বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়।

জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, জেলায় খুব জোড়ালো ভাবে ভিক্ষুক মুক্ত কার্যক্রমটি শুরু করা হলেও করোনাভাইরাসের কারণে কার্যক্রমটি সাময়িক বন্ধ আছে। তবে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

"